ঢাকা     শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৬ ১৪৩১

পাবনা-১ আসন

২৫টি কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি আবু সাইয়িদের

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৫, ৮ জানুয়ারি ২০২৪  
২৫টি কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি আবু সাইয়িদের

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। ছবি: সংগৃহীত

২৫টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে ওইসব কেন্দ্রে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন পাবনা-১ আসনের পরাজিত ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগে এ দাবি জানান তিনি।

লিখিত অভিযোগে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, পাবনা-১ আসনের ১২৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২৫টি ভোট কেন্দ্রে সরাসরি অনিয়ম করা হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকার প্রার্থী তার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে জোরপূর্বক ভোট কেন্দ্র দখল ও ভোট কেটে সরাসরি ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই সমস্ত কেন্দ্রের ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশটি পরীক্ষা করলেই এর সত্যতা প্রমাণিত হবে।

আবু সাইয়িদ বলেন, যে সমস্ত ব্যালট পেপার কেটে জাল ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে; ওই সমস্ত ব্যালট পেপারের মুড়ি বই পরীক্ষা করলে দেখা যাবে যে, মুড়ি অংশে ভোটারদের কোনো টিপসই ও ভোটার নম্বর নেই। এছাড়া অনেক ব্যবহৃত ব্যালট পেপারগুলোর পেছনে প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর নেই।

এইসব কেন্দ্রসমূহে ভোটারদের কেন্দ্রে আসায় প্রতিবন্ধকতা ও হুমকি-ধামকি দিয়ে প্রত্যাশিত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এইসব ভোট কেন্দ্রে সংবিধানের ১২৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী কর্তৃপক্ষ সহায়তা করেনি। বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রশাসন তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।

অভিযোগপত্রে সুনির্দিষ্ট ২৫টি ভোটকেন্দ্রের নাম উল্লেখ করে আবু সাইয়িদ বলেন, এ সমস্ত ভোটকেন্দ্রের সঙ্গে অন্যান্য ভোটকেন্দ্রের তুলনা করলে দেখা যায়, ভোট কেটে নেওয়া/দেওয়ার কারণে ভোটের ব্যবধান বহুগুণে অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে নির্বাচনি ফলাফল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

উল্লেখিত তথ্য উপাত্তের আলোকে ভোটার ক্রমিক নম্বর না দেওয়া এবং প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর না থাকায় ভোটগুলো বাতিলযোগ্য। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে উক্ত ভোট কেন্দ্রের ফলাফল বাতিলপূর্বক পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। সেই সঙ্গে পুনরায় নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত না করার আবেদন জানান তিনি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘ভোটের দিন সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে এমন অনিয়ম দেখেছি। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমি ভোট বাতিল ও পুনঃনির্বাচন চাই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। আশা করছি, তিনি এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবেন।’

স্বতন্ত্র প্রার্থীর এই অভিযোগের বিষয়ে মতামত জানতে সোমবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে নৌকার প্রার্থী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর ফোনে দু’বার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. আসাদুজ্জামানের।

তবে, সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলপনা ইয়াসমিন বলেন, ‘এমন কোনো বিষয় তার জানা নেই।’

প্রসঙ্গত, রোববার (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে পাবনা-১ আসনে নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকু ৯৪,৩১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ পেয়েছেন ৭২,৩৮৭ ভোট।

এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩১ হাজার ৬১৬ জন। ভোট কেন্দ্র ১২৫টি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৬জন প্রার্থী। এর মধ্যে ৪জন জামানত হারিয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-১ আসনে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৬১৮ ভোট নেওয়া হয়েছে। বাতিল হয়েছে ২৬৭৩ ভোট। ভোট পড়েছে ৩৯.৫৩%।

শাহীন/ফয়সাল

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়