ঢাকা     শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৬ ১৪৩১

তৃণমূল থেকে সংসদে শহিদুল ইসলাম

শেরপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২৭, ৯ জানুয়ারি ২০২৪   আপডেট: ১৮:৪৭, ৯ জানুয়ারি ২০২৪
তৃণমূল থেকে সংসদে শহিদুল ইসলাম

এডিএম শহিদুল ইসলাম

দেশের উত্তরের জনপদ শেরপুর জেলা। ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী এ জেলার শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসন। এই আসনে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা এডিএম শহিদুল ইসলাম। 

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই জনপ্রতিনিধি এক সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের চাপে নির্বাচন করে হন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। সেখানেও তার জয় হয় বিপুল ভোটে। প্রবল আত্মবিশ্বাসী শহিদুল চেয়ারম্যান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে এখন সংসদ সদস্য।

জেলার শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধার সিরাজুল ইসলামের বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শ্রীবরদী সরকারি কলেজে পড়ার সময় ছাত্রলীগের জয়ী প্যানেল থেকে ছাত্র সংসদের ক্রীড়া ও শরীরচর্চা বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। তিনি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

শহিদুল ইসলাম ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৯ সাথে চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ব্যাপক গণসংযোগ করেন। এলাকায় পোস্টারিং সভা-সমাবেশ ও গেট নির্মাণ করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান শহিদুল ইসলাম। নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পাওয়ার পর শ্রীবরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে আবারও পদত্যাগ করেন। নির্বাচনে সবাইকে তাক লাগিয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৪৪৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের ঝিনাইগাতী উপজেলা শাখার সভাপতি ‘ট্রাক’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম। তিনি পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২২৮ ভোট।

এডিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কখনো নেতা হতে চাইনি। আমি সাধারণ মানুষের কাতারে থেকে মানুষের সেবা করতে চেয়েছি। আমি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন মানুষ। আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের সেবা করেছি। মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমি ইউনিয়নের মানুষের মন জয় করেছি। শ্রীবরদী উপজেলার মানুষের মন জয় করেছি। এখন আমার কাঁধে দুইটা উপজেলার দায়িত্ব। এতোদিন জনপ্রতিনিধি থাকার পরেও আমার এক টাকার সম্পদ নেই।’ 

শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছালাহ উদ্দিন ছালেম বলেন, তৃণমূল থেকে একটা মানুষ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মন জয় করে সংসদ সদস্য হওয়া একটি অনন্য উদাহরণ। সেই উদাহরণই সৃষ্টি করেছেন এডিএম শহিদুল ইসলাম। রাজনীতির এই ধারা হাইব্রিড মুক্ত নেতা তৈরিতে উদাহরণ হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলামের জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ হয়েই তাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। শহিদুল ইসলাম নৌকাকে জয়ী করে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিয়েছেন।

তরিকুল/মাসুদ

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়