ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৩ ১৪৩১

পিরোজপুরে শতবর্ষী চিতই উৎসব

পিরোজপুর সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  
পিরোজপুরে শতবর্ষী চিতই উৎসব

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় শতবর্ষী চিতই উৎসব হয়েছে। প্রতি বছর এ উৎসব শুরু হয় সন্ধ্যায়, আর শেষ হয় পরের দিন সকাল ১১টার দিকে। তবে বিকেলে হয় ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এবার শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ উৎসব শুরু হয়ে শেষ হয়েছে শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজার সংলগ্ন দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ির কালিমন্দিরে অনুষ্ঠান হয়। এ উৎসবে বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ যোগ দেয়।

এ উৎসব হিন্দুধর্মালম্বীদের আয়োজনে হলেও স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসেন। সেখানে থাকা কালিমন্দিরকে কেন্দ্র করে উৎসবের অয়োজন করা হয়।

এ মন্দির কমিটির সভাপতি অমৃত লাল দাস জানান, শত বছরের বেশি সময় ধরে এ চিতই পিঠা উৎসব চলছে। প্রতি বছরের মাঘের অমাবস্যা তিথিতে কালিমন্দিরে এ উৎসব হয়। মন্দিরের ভক্তসহ বিভিন্ন লোকজন এখানে আসেন। তাদের অধিকাংশই মনোবাসনা পূর্ণ করতে বা পূর্ণ হলে এখানে এসে উৎসবে যোগ দেন। যে সকল নারীর সন্তান হয় না তারাই মূলত মানত করেন। আর সন্তান লাভের পর এখানে চিতই উৎসব করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাদা ও পিতার কাছ থেকে শুনেছি, এখানে কালি মায়ের কাছে এক নারী সন্তান লাভের জন্য মানত করেন। তার মনোবাসনা পূর্ণ হলে তিনি কালিমন্দিরে চিতই পিঠা ভেজে খাওয়ান। সেই থেকে এ উৎসব। এখন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু ভক্ত যোগ দেন।’  

এ মন্দিরের দায়িত্বে থাকা পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী জানান, শত বছরের অধিক সময় আগে তার পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী ওই উৎসবের আয়োজন করেন। উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা যোগ দেন। তারা তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে এখানে মানত করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, শীত উপেক্ষা করে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়েছে। অনেক দম্পত্তির কোলে ছোট সন্তান রয়েছে। একটি মাঠে সারি করে পরস্পর ১০৮টি মাটির চুলা তৈরি করা হয়েছে। সেই চুলার উপর সাজানো রয়েছে চিতই পিঠা তৈরির মাটির সাচ। মন্দিরের পুরোহিত দেবলাল চুলাগুলোর প্রতিটিতে পর্যাক্রমে লোহার পাত দিয়ে আঘাত, চুলায় থাকা সাচে ফুল ও পরে চুলায় আগুন দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। এ সময় পাশে বাজানো হয় ঢোল-তবলা আর হিন্দু নারীরা উলু ধ্বনি দেন। ১০৮টি চুলায় পর্যাক্রমে পিঠা তৈরিতে অংশ নেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের নারীরা। আর উদযাপন কমিটির সদস্যরা পিঠা তৈরির উপকরণ সরবরাহ করেন।

নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান শাহারিয়ার ফেরদাউস রুনা জানান, প্রতি বছর এখানে পিঠা উৎসব হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের নারী-পুরুষ আসে। এ অনুষ্ঠান উপভোগ করতে মানুষ দু-তিন দিন আগে থেকে আসতে থাকে।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম হাওলাদার জানান, উৎসব শত বছরের বেশি সময় ধরে সুন্দরভাবে চলে আসছে। পুলিশ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

তাওহিদুল/বকুল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়