ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

টাঙ্গাইলের আ.লীগ নেতা বড় মনিকে দল থেকে অব্যাহিত

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০০, ১৫ এপ্রিল ২০২৪  
টাঙ্গাইলের আ.লীগ নেতা বড় মনিকে দল থেকে অব্যাহিত

গোলাম কিবরিয়া বড় মনি

টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাকে চূড়ান্ত অব্যাহতির জন্য দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে সুপারিশ করেছেন শহর আওয়ামী লীগের নেতারা। গোলাম কিবরিয়া বড় মনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির ভাই।

গোলাম কিবরিয়ার বড় মনির বিরুদ্ধে ঢাকার তুরাগ থানায় চলতি বছরের ২৯ মার্চ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন এক নারী। ওই ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় গত ৭ এপ্রিল গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সোমবার (১৫ এপ্রিল) জানিয়েছেন শহর আওয়ামী লীগ নেতারা।

টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ স্বাক্ষরিত পত্র দলের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযমের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দলীয় সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিসক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তার (গোলাম কিবরিয়া বড় মনি) এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলীয় ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে এবং এ কারণে টাঙ্গাইলের সাধারণ জনগণ দলের প্রতি বিরূপ ধারণা পোষণ করছে। এমতাবস্থায় টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সুনাম ও ভাবমূর্তি বজায় রাখার নিমিত্তে গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হলো। চূড়ান্ত অব্যাহতি প্রদানের জন্য আপনার নিকট সুপারিশ করা হলো।’

টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ সোমবার বলেন, ঈদের আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে গোলাম কিবরিয়া বড় মনিকে চূড়ান্ত অব্যাহতি প্রদানের জন্য সুপারিশ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদকের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে গোলাম কিবরিয়া বড় মনির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠো ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

প্রসঙ্গত, গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে গত বছরের এপ্রিল মাসে এক নারী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ধর্ষণের ফলে তিনি গর্ভবতী। পরে ওই নারী একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন। আদালতের নির্দেশে ওই সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। ডিএনএ প্রতিবেদনে বল হয়, ওই সন্তানের জৈবিক পিতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনি নন। এর কয়েক মাস পর ওই নারী আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ওই নারীর বড় বোন তার ভাই জনি মির্জা ও সৌরভ পাল নামের যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

কাওছার/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়