ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

অপরিকল্পিত স্লুইস গেটে ভরাট হচ্ছে খাল, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কাজ

বরগুনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৮, ২৭ এপ্রিল ২০২৪  
অপরিকল্পিত স্লুইস গেটে ভরাট হচ্ছে খাল, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কাজ

ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ার-ভাটার পানি থেকে উপকূলীয় এলাকা রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ৬০ এর দশকে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি নদীর সঙ্গে সংযোগ খালগুলোর প্রবেশদ্বারে অস্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্লুইস গেটে তৈরি করা হয়। বর্তমানে এসব  স্লুইস গেটের কারেণ এক সময়ের খরস্রােত খালগুলো এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। ফলে ওই খালগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ না থাকায় কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে।  

ভুক্তোভোগী ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, স্লুইস গেট দিয়ে জোয়ারের সময় যে পরিমাণ পানি প্রবেশ করে, ভাটার সময় সেই পরিমাণ পানি নামে না। এই কারণে পলি জমে খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চাষাবাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না পাওয়ায়  কৃষি কাজ হুমকির মুখে পড়ছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকাকে ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য ৬০ এর দশকের দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বন্যা  নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ হয়। একই সঙ্গে জেলার শাখা খালগুলোর সংযোগদ্বারে বিভিন্ন সময় বরগুনা জেলায় ৭৫০টি স্লুইস গেট তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২৮টি নতুন স্লুইস গেট নির্মাণের কার্যক্রম চালু আছে।  

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলা বদরখালী ইউনিয়নের কুমরাখালী থেকে বদরখালী এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ সংযোগ খালের দুই প্রান্তে দুইটি স্লুইস গেট রয়েছে। বর্তমানে খালটি পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। একই অবস্থা গৌরিচন্না ইউনিয়নের লাকুরতলা খালের। এই খাল দিয়ে এক সময় ট্রলারে মানুষ যাতায়াত করলেও খালের সংযোগদ্বারে স্লইস গেট থাকার কারণে সেটিও ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এই এলাকার কৃষি কাজে পানির সংকটের কারণে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। 

তালতলী উপজেলার পচাঁকোড়ালীয়া এলাকায় ৬০ দশকে ৫ দরজার একটি স্লুইস গেট নির্মাণ হয়। নিদিষ্ট সময়ের পর স্লুইসের নিচের স্তর বেরিয়ে এসেছে। এর ফলে এই খালে জোয়ারে উঠে আসা পানি আটকা পড়ছে। ফলে পলি জমে এই খালটিও ভরাট  হচ্ছে। 

বরগুনা সদর উপজেলা গুলিশাখালী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, বিষখালী নদীর সঙ্গে আমাদের এই খালটি  উন্মক্ত ছিল। তখন আমাদের এলাকায় সব ধরনের ফসল আবাদ করা হতো। খালের প্রবেশদ্বারে স্লুইস গেট তৈরির কয়েক বছর পর থেকে এই এলাকায় পানি সংকট দেখা দেয়। বর্তমানের খালটি ভরাট হয়ে গেছে। আমরা স্লুইস গেট কেটে দেওয়ার দাবি করছি। তাহলে কৃষক বাঁচবে। 

লাকুরতলা এলাকার কৃষক খলিলুর  রহমান বলেন, এই খাল দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক ট্রলার চলাচল করতো। এখন খাল ভরাট হওয়ার কাররণ কৃষকরা নিজেদের জমিতে বোরো ও আমনসহ রবি শষ্য আবাদের সময় পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না। ফলে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। 

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম বলেন, স্লুইস গেট ভালো না থাকলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে কৃষিতে। লবন পানি আর জলাবদ্ধতা দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা। পলি জমে খাল ভারাটের কারণে চাষাবাদের সময় পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ার কারণে  ব্যাহত  হচ্ছে কৃষি কাজ। ফলে ফসল উৎপাদন কমে গেছে। 

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও উচ্চ জোয়ারে পানি যাতে উপকূলের এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়। যেসব খাল ভরাট হয়ে গেছে তা আমরা খননের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠাবো। পাশাপাশি নতুন করে স্লুইস গেট নির্মাণের আগে সব দিক বিবেচনা করবো।

ইমরান/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়