ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৩ ১৪৩১

মতলবে রাসেল ভাইপার, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক 

চাঁদপুর প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০১, ২১ জুন ২০২৪   আপডেট: ১৫:০৩, ২১ জুন ২০২৪
মতলবে রাসেল ভাইপার, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক 

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিষাক্ত রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপের দেখা মিলছে, ফলে উপজেলার সর্বত্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার মেঘনা ধনাগোদা বেরি বাঁধের দশানী এলাকায় একটি রাসেল ভাইপারের দেখা মেলে। পরে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন স্থানীয়রা। 

এর আগে গত ২৮ মে এ উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের নয়ানগর বটতলা এলাকা থেকে ২টি রাসেল ভাইপারকে ধরা হয়। ১৬ মে একই ইউনিয়নের বোরচর এলাকা থেকে একই প্রজাতির আরেকটি সাপ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেশ কয়েকদিন ধরে উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম চরাঞ্চল বোরচরে সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। কিন্তু এবার পূর্বপাড়ে দেখা মিললো ভয়ংকর এই সাপের। এর ফলে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চলের বসবাস করা মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। 

স্থানীয়দের দাবি, একের পর এক বিষধর রাসেল ভাইপার সাপের দেখা মিলছে চাঁদপুরের নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। গত তিন মাসে অন্তত দশটি রাসেল ভাইবারে দেখা মিলেছে এ উপজেলায়।

দশানী গ্রামের মো. মাসুদ রানা জানান, বেড়ি বাঁধের পাশে বিষধর রাসেল ভাইপার দেখতে পেয়ে সবাই মিলে সাপটিকে মেরে ফেলেছেন। এখন এলাকার মানুষ ভয়ে রাস্তা ঘাটে চলাফেরা করতে পারছে না। 

এখলাসপুর এলাকার হুমায়ুন মিয়াজি বলেন, গত ২৮ মে জোয়ারে নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে রাসেল ভাইপার সাপটি বালুর মাঠে চলে আসে। সাপটি যখন চলে যাচ্ছিল তখন আমি লোকজনকে ডাক দিলে তারা এসে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

বোরচর এলাকার কৃষক সুমন বেপারি জানান, গত ১৬ মে আমার জমিতে ধান কাটতে গিয়ে দেখি ধানের মুঠির নিচে একটি সাপ শুয়ে আছে। সবাই মিলে সাপটিকে মেরে ফেলি। পরে দেখি এটি একটি বিষধর রাসেল ভাইপার। গত ফেব্রুয়ারি মাসে গফুর বাদশার আলু ক্ষেতে আরও দুইটি রাসেল ভাইপার সাপ দেখা গেছে।

এ বিষয়ে এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, আমি খবরটি পেয়েছি। বেশ কয়েকমাস ধরে আমাদের ইউনিয়নসহ বিভিন্ন জায়গায় রাসেল ভাইপার সাপ ধরা পড়ছে। আমরা এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছি।

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রবোড়া বা উলু বোড়া সবচেয়ে বিষাক্ত ও এর অসহিষ্ণু ব্যবহার। লম্বা বহির্গামী বিষদাঁতের জন্য অনেক বেশি লোক দংশিত হন। বিষক্রিয়ায় রক্ত জমা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অত্যধিক রক্তক্ষরণে অনেক দীর্ঘ যন্ত্রণার পর রোগীর মৃত্যু ঘটে।

তিনি আরও বলেন, সাপ সাধারণত ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। তবে চন্দ্রবোড়া সাপ ডিম পাড়ার পরিবর্তে সরাসরি বাচ্চা দেয়। এরা বছরের যে কোনো সময় প্রজনন করে। একটি স্ত্রী সাপ গর্ভধারণ শেষে ২০ থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে কোনো কোনো চন্দ্রবোড়া সাপের ৮০টি পর্যন্ত বাচ্চা দেয়ার রেকর্ড আছে।

জয়/টিপু

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়