ঢাকা     বুধবার   ১১ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২ || ২১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম, দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন’

দিনাজপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫৬, ৭ নভেম্বর ২০২৫   আপডেট: ২২:৩৭, ৭ নভেম্বর ২০২৫
‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম, দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন’

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বেডে এক নবজাতক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন স্বজনেরা। নবজাতকের বিছানার পাশে একটি বাজারের ব্যাগে চিরকুট পাওয়া গেছে।

চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমি মুসলিম। আমি একজন হতোভাগি। পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। বাচ্চার জন্মতারিখ ৪ নভেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার)। এগুলো সব বাচ্চার ওষুধ...।’

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিশুটিকে দত্তক নিতে হাসপাতালে ভিড় করেছেন অনেকেই।

নবজাতকটি বর্তমানে হাসপাতালের পেডিয়ার্টিক ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছে। সে শারীরিকভাবে সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ওই নবজাতককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রারে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ইনছুয়ারা, শাহিনুর, আলাদিপুর, ফুলবাড়ী।

হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক গোলাম আহাদ বলেন, ‘‘গতকাল সন্ধ্যায় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক দম্পতি শিশুটিকে নিয়ে এসে ভর্তি করতে বলেন। নিজেদের পরিচয় দেন শিশুটির নানা-নানী হিসেবে। শিশুটির মায়ের খোঁজ করলে তারা বলেন, মা নিচে আছেন। মাকে নিয়ে আসতে বললে বাচ্চাসহ ওই দম্পতি বেড়িয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর শিশু ওয়ার্ডের বাইরে একটি বেডে বাচ্চাটিকে একা থাকতে দেখে অন্যরা বিষয়টি জানান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির মা ও স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিশুটির বিছানায় একটি বাজারের ব্যাগে কিছু ওষুধ, ডায়াপার ও জামাকাপড় পাওয়া গেছে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের যে সময়কাল, তার আগেই বাচ্চাটির জন্ম হয়েছে। ফটোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্মারে রাখা হয়েছে। তবে, শিশুটি সুস্থ আছে।’’

হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘নবজাতকটিকে আমরা বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখেছি। প্রথমত শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকদের খুঁজে পাওয়া আমাদের প্রধান কাজ। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি। রেজিস্টারে থাকা ঠিকানা অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে। অভিভাবকদের পাওয়া গেলে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

ঢাকা/মোসলেম/রাজীব

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়