ঢাকা     রোববার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৯ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

এক পা হারিয়েও থামেননি শিপন: বাস কন্ডাক্টর থেকে অ্যামপিউটি ফুটবলার

গাজীপুর পূর্ব প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৪:৩৩, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এক পা হারিয়েও থামেননি শিপন: বাস কন্ডাক্টর থেকে অ্যামপিউটি ফুটবলার

অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে নিজের জীবনের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন শিপন মিয়া

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক শিপন মিয়া। একসময় জীবিকার তাগিদে যাত্রীবাহী বাসের সহকারী (কন্ডাক্টর) হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হারান নিজের একটি পা। সেই দুর্ঘটনার পর জীবনের পথ যেন থমকে যায়।

তবে হার মানেননি শিপন। সীমিত সামর্থ্য আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে নতুনভাবে জীবন শুরু করেন তিনি। আর সেই পথচলায় পাশে দাঁড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থা, যা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

আরো পড়ুন:

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থার ৫ম বার্ষিক সাধারণ সভা, পারিবারিক মিলনমেলা ও শীতকালীন পিঠা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে আবেগঘন কণ্ঠে নিজের জীবনের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন শিপন মিয়া। তার চোখে তখন আনন্দ, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার অশ্রু।

দুর্ঘটনার পর জীবিকার তাগিদে শিপন স্বল্প পুঁজি নিয়ে বক্তারপুর বাজারের ফুটপাতে একটি ছোট চায়ের দোকান দেন। সেই দোকানেই কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা তার শারীরিক অবস্থার কথা জেনে উদ্যোগ নেন। তাদের আর্থিক সহায়তায় সাভারের সিআরপি (সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড) থেকে তাকে কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় শিপনের নতুন জীবনের অধ্যায়।

শিপন জানান, সিআরপিতে থাকার সময় কেউ একজন তাকে ফুটবল খেলতে পারেন কিনা জানতে চান। এরপর এক পায়ে ফুটবল খেলার চেষ্টা শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই চেষ্টাই তাকে পৌঁছে দেয় বাংলাদেশ জাতীয় অ্যামপিউটি ফুটবল দলে। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলার সুযোগ পান তিনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নিয়ে ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছেন। এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে এশিয়া কাপেও অংশগ্রহণ করেন তিনি।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিপন বলেন, “কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থা শুধু আমাকে কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেয়নি, তারা আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে। আগে মনে হতো একটি পা না থাকায় আমি ঘরবন্দী হয়ে গেছি। কিন্তু আজ আমি এক পা নিয়েই বিশ্বজুড়ে দৌড়াচ্ছি, নিজেকে সবার সামনে তুলে ধরছি।”

অনুষ্ঠানে কালীগঞ্জ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ভূঁঞার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম. কামরুল ইসলাম।

দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল আনন্দ, সংস্কৃতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলা। প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং জমজমাট ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এতে দুই শতাধিক সদস্য, অতিথি ও পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকা/রফিক/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়