রাতদুপুরে লাইভে সারজিস, ‘সাংঘাতিক’ থেকে চাইলেন মুক্তি
পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বুধবার রাতদুপুরে পঞ্চগড় পৌর এনসিপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান রিলুর বাসায় গেলে সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম। ছবি: রাইজিংবিডি।
ঘড়িতে তখন রাত আড়াইটা। হঠাৎ ফেসবুক লাইভে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম।
এ সময় ক্ষোভ ঝাড়েন অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে; বলেন, পঞ্চগড়ের কিছু সাংবাদিক নামক সাংঘাতিক থেকে মুক্তি চান তিনি।
বুধবার রাতদুপুরে সারজিস তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইকবাল হোসাইনকে দেখা যায়।
সারজিস অভিযোগ করে বলেন, “আমরা দেখছি বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাদের জায়গা থেকে পেশীশক্তির প্রয়োগ করে তারা অনেক ভোটারকে ভয় দেখাইতে চায় এবং প্রতিপক্ষ দলের লোকদের হুমকি দিতে চায়। হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি পর্যন্ত করে এবং বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। এমনকি তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর্যন্ত হুমকি দিচ্ছে। আজকে এরকম ঘটনাই ঘটেছে পঞ্চগড় পৌর এনসিপির সেক্রেটারি আমিনুর রহমান রিলুর সঙ্গে।”
তিনি বলেন, “সেখানে পঞ্চগড় জেলার সাংবাদিক নামের নির্বাচন কেন্দ্রিক কার্ডধারী কিছু লোকজন গিয়েছিল। যাদের গলায় সাংবাদিকের কার্ড ছিল কিন্তু তারা এমন কিছু চ্যানেল, পত্রিকা বা পেইজের সাংবাদিক- যেগুলোর নাম হয়তো বাংলাদেশে কেউ কোনো দিন শোনেনি। তারা তাদের জায়গা থেকে ফুল টাইম করে পলিটিক্স। ৯৯ পার্সেন্ট করে দালালি-তোষামোদি, আর এক পার্সেন্ট সময়ের প্রয়োজনে হঠাৎ করে গলায় একটা কার্ড ঝুলিয়ে তারা সাংবাদিক হয়ে যায়।”
সারজিস আলম বলেন, “তবে যারা সম্মানিত সাংবাদিক, তাদের আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যারা ৯৯ দিন রাজনীতি করবে, দালালি করবে, তোষামোদি করবে, আর একদিন সময়ের প্রয়োজনে সাংবাদিক হয়ে যাবে; এইরকম যে লোকজন আছে, আজকে তারা তাদের জায়গা থেকে বিরাট একটা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে। পঞ্চগড়ে সাংবাদিক নামক যে সাংঘাতিকগুলো তৈরি হয়েছে, তাদের থেকে আমাদের মুক্তি লাগবে।”
“পঞ্চগড়ের পুরোনো রাজনৈতিক শকুন যারা, তাদের কাছ থেকে মুক্তি লাগবে,” যোগ করেন তিনি।
এর আগে রাত ১১টার দিকে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “বিএনপির সন্ত্রাসী ক্যাডাররা পঞ্চগড় পৌর এনসিপির সদস্য সচিবকে হুমকি দিয়ে এইমাত্র ২০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে গিয়েছে!’
এই পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইকবাল হোসাইনসহ সারজিস আলম যান পৌর এনসিপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান রিলুর বাসায়।
সেখানে সারজিসের উপস্থিতি দেখে বিএনপির স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। অভিযোগ তুলেন, সারজিস ওই বাড়িতে টাকার বস্তা নিয়ে ঢুকেছেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঈমী ইমতিয়াজ ঘটনাস্থলে যান। তাদের পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঢাকা/নাঈম/রাসেল