রাজশাহীতে ফিতরা ৮৫ টাকা
রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
রাজশাহীতে এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৮৫ এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এ ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জামেয়া ইসলামিয়া শাহ মখদুম (দরগাপাড়া) মাদরাসার সম্মেলন কক্ষে শীর্ষ আলেমদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মাওলানা আব্দুল খালেক।
সভায় রাজশাহী মহানগরীর কয়েকটি বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাজারদর পর্যালোচনা করে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আটা ৫০ টাকা কেজি দরে ১ কেজি ৬৫০ গ্রামের মূল্য ৮২ টাকা ৫০ পয়সা, দরিদ্রের স্বার্থ বিবেচনায় ফিতরা ৮৫ টাকা। যব ১২০ টাকা কেজি দরে ৩ কেজি ৩৩০ গ্রামের মূল্য ৩৯৬ টাকা, দরিদ্রের স্বার্থ বিবেচনায় ফিতরা ৪০০ টাকা। খেজুর ৭০০ টাকা কেজি দরে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের মূল্য হিসেবে ফিতরা ২ হাজার ৩০০ টাকা। কিসমিস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের মূল্য হিসেবে ফিতরা ২ হাজার ৬৪০ টাকা এবং পনির প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা কেজি দরে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের মূল্য হিসেবে ফিতরা ৩ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জামেয়া রহমানিয়া মাদরাসার নায়েবে মুহতামীম ড. মাওলানা ইমতিয়াজ আহমেদ, দারুল উলুম মাদরাসার, মুফতি মোহাম্মাদ ইয়াকুব আলী, জামেয়া উসমানিয়ার মাদরাসার মাওলানা মুফতি ওয়ালিয়্যুল ইসলাম, সাহেববাজার বড় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতীব মাওলানা আব্দুল গনি আব্বাসী, শাহমখদুম দরগা মসজিদের পেশ ইমাম ও খতীব হাফেজ মাওলানা মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান কাসেমী, দারুসসালাম কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি জাকারিয়া হাবিবী, জামিয়াহ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের মুফতি আব্দুল্লাহ, আবেদ আলী মাদানী মাদরাসার পরিচালক মুফতি আতিকুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক আলেম।
সভার মুখ্য সমন্বয়ক মাওলারা মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান কাসেমী জানান, উলামায়ে কেরাম জনগণের সুবিধার জন্য ফিতরার একটি মধ্যম হার নির্ধারণ করেছেন। তবে আদায়কারীকে সর্বনিম্ন পরিমাণটা গ্রহণ না করে দরিদ্র জনগোষ্ঠির স্বার্থ বিবেচনায় রেখে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আদায় করতে হবে।
ফিতরা (সাদকাতুল ফিতর) হলো পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখার পর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যকীয় সাদকা, যা ঈদের নামাজের পূর্বে গরিব-দুঃখীদের দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো রোজার কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তা সংশোধন করা এবং ঈদে দরিদ্রদের আনন্দ ভাগাভাগি করা।
ঢাকা/মাহী/বকুল