ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ করতে নিষেধ করেন এমপি!

রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩২, ২৬ মার্চ ২০২৬  
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ করতে নিষেধ করেন এমপি!

স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ করতে নিষেধ করেছে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিন দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানকে এ নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়াও উপজেলার এক নেতাকে দিয়েও গীতা পাঠ বন্ধ করতে বলেন ওই সংসদ সদস্য।    

তবে, স্বাধীনতা দিবসের ওই অনুষ্ঠানে কোরআন তেলওয়াতের পর গীতা পাঠও হয়েছে। যদিও গীতা পাঠের সময় উপস্থিত ছিলেন না জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি অনুষ্ঠানে দেরি করে উপস্থিত হয়েছিলেন।

গীতা পাঠ করতে নিষেধ করার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নিন্দা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতারা নিন্দা জানিয়েছেন। তবে, এ ঘটনায় বিব্রত অবস্থা পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গীতা পাঠ করা হয়।  

তানোরের ডাকবাংলো মাঠে এবার কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কুচকাওয়াজ শেষে গীতা পাঠ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কয়েকজনের কথা বলার ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ভিডিওটিতে শোনা যায়, স্থানীয় এক ব্যক্তি ইউএনওর কাছে জানতে চান, “গীতা পাঠ করা যাবে না, এমন নির্দেশনা এমপি সাহেব দিয়েছিলেন?” জবাবে ইউএনও বলেন, “জেলায় এবং অন্যান্য উপজেলাতেও হয়েছে।” বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমিরের সঙ্গে কথা হয়েছে, জানিয়ে ওই ব্যক্তি তখন বলতে থাকেন, “এটা তো রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম। আপনারা শহীদ মিনারে যাচ্ছেন, ফুল দিচ্ছেন, আর গীতা পাঠ করতে দেবেন না? তাহলে হিন্দুদেরকে মনোনয়ন দিলেন কেন?”

ইউএনও নাঈমা খান সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, “পরশু দিন এমপি স্যারের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছিল ইনভাইট করার জন্য। তখন তিনি আমাকে মৌখিকভাবে বলেছিলেন, গীতা পাঠ তো বিগত সরকারের একটা প্রোগ্রাম, আপনারা এইগুলা প্রোগ্রাম রাখবেন না। আমি আবার খবর নিয়ে দেখলাম যে, গীতা পাঠ তো সব জায়গায় হবে। পরে আমি এমপি স্যারের প্রতিনিধিকে জানিয়েছি এবং গীতা পাঠ হয়েছে।”

ইউএনও বলেন, “প্রোগ্রামের শেষে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করতেছে যে, উনি (এমপি) গীতা পাঠের কথা নিষেধ করেছিলেন কি না? কিন্তু, রাষ্ট্রীয়ভাবে সব জায়গায় হয়েছে, আমরাও করিয়েছি। একজন নারীবিষয়ক কর্মকর্তা অনুবাদসহ করেছেন।”

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, “বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময় এসেছে। তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি চিন্তা করে কী তেলাওয়াত করবে, তা ঠিকঠাক করেছে। যখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এল, তখন থেকেই শুধু কোরআন তেলাওয়াত হতো, বাকিগুলো তেলাওয়াত হতো না। ফ্যাসিস্ট সরকার মাঝে কী করেছিল, আমার জানা নেই।”

মুজিবুর রহমান আরো বলেন, “আমরা যে শপথ নিলাম সেদিন জাতীয় সংসদে, সেখানে শুধু কোরআন তেলাওয়াত হয়েছে। আর কিছু তেলাওয়াত হয়নি। আমি জাতীয় সংসদ অনুসরণ করব, সংবিধান অনুসরণ করব। জাতীয় সংসদ অনুসরণ করে দেশ চলবে, এটাই তো ভালো। এটার অর্থ কে কী বুঝল, সেটা তো আমি বলতে পারব না। তানোরে গীতা পাঠ হয়েছে কি না, তাও জানি না। আমি ঢাকা থেকে এসে গিয়েছি দেরি করে। আমার সামনে তেলাওয়াত হয়নি।”

ঢাকা/মাহী/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়