ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি

ঢাকায় পৌঁছে মাকে কল দিতে চেয়েছিলেন রাজীব

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫৪, ২৬ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ২২:০২, ২৬ মার্চ ২০২৬
ঢাকায় পৌঁছে মাকে কল দিতে চেয়েছিলেন রাজীব

রাজীব বিশ্বাস

দুই বছর ধরে ঢাকার আশুলিয়াতে ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চাকরি করতেন রাজীব বিশ্বাস (৩২)। ঈদের ছুটি শেষে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খাগরবাড়িয়া থেকে বুধবার (২৫ মার্চ) তিনি ঢাকায় ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি মাকে জানিয়েছিলেন যে, ঢাকায় পৌঁছেই মোবাইল ফোনে কল করবেন। কিন্তু, মায়ের ফোনে সেই কাঙ্ক্ষিত কল আর আসেনি। পরে খবর আসে, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে বাস নদীতে পড়ায় পানিতে ডুবে মারা গেছেন রাজীব। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে রাজীবের লাশ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার স্থানীয় শৈলডাঙ্গী মহাশ্মশানে দাহ করা হয়।

আরো পড়ুন:

রাজীবের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তারা দুই ভাই। রাজীব এইচএসসি পাস করে দুই বছর ধরে আশুলিয়াতে চাকরি করেন। ছোট ভাই সজীব বিশ্বাস ঢাকাতে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাবা হিমাংশু বিশ্বাস কৃষিকাজ করেন। মা রেখা রানী বিশ্বাস গৃহিণী।

মহাশ্মশানে মাথায় হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজীবের বাবা হিমাংশু বিশ্বাস। তিনি জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হন রাজীব। ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। বাড়িতে তার মাকে বলে যান, ঢাকায় পৌঁছে কল করে জানাবেন। কিন্তু, বিকেলে তারা জানতে পারেন, ছেলে যে বাসে ছিলেন, সেই বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। এর পর ছেলের মৃত্যুর খবর পান। রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। 

রাজীবের ছোট ভাই সজীব বিশ্বাস জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা থেকে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। স্বজনরা রাতেই রাজীবের লাশ বুঝে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ঢাকায় যে প্রতিষ্ঠানে রাজীব চাকরি করতেন, সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক আল মামুনও খোকসায় আসেন। তিনি বলেন, “রাজীব খুব ভালো ও বিশ্বস্ত কর্মী ছিলেন। কাজের প্রতি তিনি খুবই মনোযোগী ছিলেন। আমি একজন ভালো কর্মী হারালাম।”

ঢাকা/কাঞ্চন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়