ভোগান্তির নাম জ্বালানি তেল: গোপালগঞ্জে ‘হাই হাই অবস্থা’
|| রাইজিংবিডি.কম
গোপালগঞ্জের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষো করেও চাহিদা মতো তেল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে অর্ধেকেরও কম তেল সরবরাহ হওয়ায় পাম্প মালিক যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি ক্রেতাদের মধ্যে ‘হাই হাই অবস্থা’ তৈরি হয়েছে।
এমনকি সংকটের কারণে অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তবে ফিলিং স্টেশনগুলোর মালিকরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে তেল কম পাওয়া এমন পরিস্থিতে পড়েছেন তারা।
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে দেখা গেছে, জেলার ২২টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অর্ধেকেও বেশি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। যে কয়টি ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের দীর্ঘলাইন, যা ফিলিং স্টেশনগুলো ছেড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর গিয়ে ঠেকেছে।
দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও অনেক ক্রেতা চাহিদার তুলানায় কম তেল পাচ্ছেন; আবার অনেকেই না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সংকটের কারণে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে একশ থেকে দুইশ টাকার সীমায় তেল দেওয়া হলেও দূরপাল্লার বাস প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। তেলের এই সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রমও। কৃষকসহ সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে তেল বিক্রি করছেন এবং প্রতি লিটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম নিচ্ছেন। সংকটের কারণে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ তাদের যানবাহন ব্যবহার করতে পারছেন না। স্থানীয়রা পেট্রোল ও অকটেনকে ‘সোনার হরিণ’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তার একবারে হাই হাই অবস্থা। চাকরি বাঁচানো নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়া এই তরুণ আফসোস করে বলেন, “আমি একটি কম্পানিতে জব করি। আমার কাজ হলো জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে কাজ করা। এতে আমার প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকার তেল প্রয়োজন। কিন্তু ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে দেখি দিচ্ছে, মাত্র ২০০ টাকার তেল দিচ্ছে। এত কম তেল দিয়ে কীভাবে আজ কাজ করব।”
ট্রাকচালক শরীফ শেখ বলেন, “আমি মাল নিয়ে ঢাকা থেকে খুলনা যাচ্ছি। রাস্তায় বিভিন্ন পাম্পে দাড়িয়েও প্রয়োজন মতো তেল পাচ্ছি না। গোপালগঞ্জের ফিলিং স্টেশনগুলোতেও একই অবস্থা।”
মিতা ফিলিং স্টেশনের মালিক শেখ মাসুদুর রহমান। তার সঙ্গে কথা হলে রাইজিংবিডি ডটকমকে তিনি বলেন, “ডিপো থেকে আমরা চাহিদা মতো তেল পাচ্ছি না। সেই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দিন-রাত উপচে পড়া ভিড়। চাহিদার তুলনায় তেল না পাওয়া গেলে আমরা কীভাবে দেব। আগে যেখানে দুই-তিন গাড়ি তেল পাওয়া যেত, সেখানে এখন ডিপো থেকে অর্ধেকেরও কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে; তা-ও আবার এক দিন পর পর রেশনিং পদ্ধতিতে।”
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, “প্রশাসন নিয়মিত ফিলিং স্টেশন তদারকি করছে। একই সঙ্গে হাট-বাজারে অভিযান পরিচালনা করে তেল মজুত রাখার অভিযোগে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।”
ঢাকা/বাদল/রাসেল
ফেরি পারাপারে ঝুঁকি কমাতে এখন থেকে কোনো বাস সরাসরি যাত্রীসহ ফেরিতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী