নড়াইলে প্রস্তুত ৪৫৪৯৭ গবাদি পশু
নড়াইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের রাহুল এগ্রো ফার্মে কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা গরু।
নড়াইলে এবার খামার ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোরবানির জন্য ৪৫ হাজার ৪৯৭টি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা জেলার চাহিদার তুলনায় বেশি। খামারিরা বলছেন, পশু মোটাতাজা করণের খরচ বাড়ায় আশানুরূপ দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১৪ হাজার ৮৭৪টি ষাঁড়, ৬৩৯টি বলদ, ৫ হাজার ১৪১টি গাভী, ২৪ হাজার ৭৮৮টি ছাগল এবং ৫৫টি ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩টি। উদ্বৃত্ত থাকবে ৫ হাজার ৭৬৪টি। এই পশু অন্য জেলায় বিক্রি করা হবে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার একটি খামারের মালিক সোহাগ মিনার বলেন, “খৈল, ভূসি, খড়, খুদ, চিটাগুড়, ঘাসসহ সব জিনিসেরেই দাম ঊর্ধ্বমুখী। গরুর খবারের জন্য প্রতিকেজি গমের ভূসি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, চালের কুড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ভুট্টা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে। ঘাসের আঁটি ২০ টাকা। গত বছরের তুলনায় এ বছর খরচ বেশি। খরচ অনুযায়ী গরুর দাম না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হব।”
নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের রাহুল এগ্রো ফার্মের মালিক রাহুল বলেন, “প্রতি বছর আমার খামারে কোরবানির জন্য ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়। এ বছর ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি ষাঁড় রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় ষাঁড় বিক্রি করে লাভ করতে পারব কিনা না এ চিন্তায় রয়েছি।”
এই খামারে গরু কিনতে আসা আবদুল্লাহ আল-মারজান বলেন, “হাটের ভিড় এড়াতে ও সুস্থ-সবল গরু কেনার জন্য আমরা সরাসরি খামারে এসেছি। শেষ সময়ের দিকে হাটে গরুর দাম চড়া থাকে। অনেক সময় দালালদের চক্করে পড়তে হয়। অনেক কষ্ট হয় হাটে, এ জন্য খামারে গরু কিনতে এসেছি। খামারের লোকজন গরুর দাম একটু বেশি চাচ্ছেন এমনটি মনে হচ্ছে।”
নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, “কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজা না করেন এ জন্য আমরা খামারিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ বছর জেলার ৩টি উপজেলায় ১০টি কোরবানি পশুর হাট বসবে। এসব হাটে অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত পশু শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে। পশু খাদ্যের দাম বেশি
হওয়ায় এবার খামারিদের হয়ত অল্প লাভে সন্তুষ্ট থাকতে হতে পারে।”
ঢাকা/শরিফুল/মাসুদ