ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রহস্যময় নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি ‘গ্লোবাল হাম’

সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩১, ১৫ মে ২০২৬   আপডেট: ১২:০৬, ১৫ মে ২০২৬
রহস্যময় নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি ‘গ্লোবাল হাম’

ছবি: প্রতীকী

বিশ্বে অনেক বছর ধরে এক রহস্যময় নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ বা লো-ফ্রিকোয়েন্সি সাউন্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও ‘গ্লোবাল হাম’ নামে পরিচিত এই অদ্ভুত গুঞ্জনের উৎস আজও পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। বিশ্বের মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ মানুষ এই শব্দ শুনতে পান বলে ধারণা করা হয়। যারা এটি শুনতে পান, তাদের বলা হয় ‘হিয়ারার’ বা শ্রোতা।

শ্রোতাদের বর্ণনায়, এই শব্দ অনেকটা দূর থেকে ভেসে আসা ডিজেল ইঞ্জিনের গুঞ্জনের মতো। তবে এটি শুধু শোনা যায় না, অনেকেই দাবি করেন তারা শরীরের ভেতর কম্পনের মতো অনুভব করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই শব্দ শুনতে শুনতে অনেকে অনিদ্রা, মাথাব্যথা, উদ্বেগ, বমি বমি ভাব এবং মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন।

আরো পড়ুন:

গ্লোবাল হাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে ইউনিভার্সিটি অব সাউদ্যাম্পটন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া)। গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এই শব্দ শোনার প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে গভীর রাতে চারপাশ শান্ত থাকলে শব্দটি আরও তীব্র মনে হয়।

বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চল গ্লোবাল হামের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর ‘তাওস হাম’। নব্বইয়ের দশকে সেখানে মানুষের অভিযোগ এতটাই বাড়ে যে মার্কিন কংগ্রেস পর্যন্ত তদন্ত শুরু করতে বাধ্য হয়। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ‘ব্রিস্টল হাম’ এবং কানাডার অন্টারিওর ‘উইন্ডসর হাম’ও রহস্যময় গুঞ্জনের পরিচিত কেন্দ্র হিসেবে আলোচিত।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘‘সমুদ্রের ঢেউ সমুদ্রতলের সঙ্গে সংঘর্ষে যে কম্পন তৈরি করে, তা থেকে নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ সৃষ্টি হতে পারে। একে বলা হয় ‘মাইক্রোসিসমিক’ কম্পন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, বড় গ্যাস পাইপলাইন, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, শিল্পকারখানার বিশাল ফ্যান বা ডাটা সেন্টারের যন্ত্রপাতি থেকেও এ ধরনের কম্পন তৈরি হতে পারে, যা মাটির নিচ দিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।’’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্লোবাল হাম মানুষের শ্রবণক্ষমতার একেবারে নিম্ন সীমায় অবস্থান করে। তাই সাধারণ মাইক্রোফোনে এটি ধরা পড়ে না। অনেক সময় আশপাশের স্বাভাবিক শব্দের মধ্যে এটি হারিয়েও যায়। চিকিৎসাবিদরা একে টিনিটাস বা কানের ভেতরের শব্দের সঙ্গে তুলনা করলেও দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। টিনিটাস সাধারণত উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ, আর গ্লোবাল হাম হলো নিচু ফ্রিকোয়েন্সির গুঞ্জন।

তারপরেও আজও গ্লোবাল হাম আধুনিক বিজ্ঞানের এক অমীমাংসিত রহস্য। এটি প্রকৃতির সৃষ্টি, নাকি শিল্পায়নের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া— সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো খুঁজে চলেছেন গবেষকরা।

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়