সয়াবিন ও বিমানেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠকের ফলাফল
বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার প্রথম দফার আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আজ দিনের পরবর্তী সময়ে ও আগামীকাল আরো কয়েকবার তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে প্রথম দফার আলোচনায় কী উঠে এলো তা জানার জন্য বিশ্ব যখন অপেক্ষা করছে, তখন বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার আলোচনার ফলাফল কোনো দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবর্তনের চেয়ে বরং ‘সরাসরি লেনদেনভিত্তিক’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
স্বতন্ত্র চীন বিষয়ক কৌশলবিদ অ্যান্ড্রু লিওংয়ের মতে, চীন এমন কিছু বিষয়ে ছাড় দেবে যা তাদের জন্য কোনো বাড়তি ব্যয় বা ক্ষতির কারণ হবে না।
লিওং বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা চীনের জন্য কোনো বড় বিষয় নয়।” বাণিজ্য যুদ্ধের সময় বেইজিং ব্রাজিল থেকে সয়াবিন কেনা শুরু করেছিল; এখন আবার যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ফিরে আসা তাদের জন্য খুবই সহজ।
বিমানের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, “চীনকে প্রচুর বিমান কিনতে হয়। বোয়িং থেকে না কিনলে তারা এয়ারবাস থেকে কিনবে।” ফলে এসব অর্ডার পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া চীনের জন্য আরেকটি সস্তা ছাড় বা আপস মাত্র।
অন্যদিকে, লিওংয়ের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে আসা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলে অ্যাপল, ব্ল্যাকরক এবং টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি একটি বিশেষ সংকেত দেয়। ট্রাম্পের দেশে ফেরার জন্য কিছু অর্জন প্রয়োজন: যেমন চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, যা তিনি তার রাজনৈতিক সমর্থকদের সামনে তুলে ধরতে পারেন। বিশেষ করে সামনে যখন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং তার জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপ রয়েছে।
তিনি আরো যোগ করেন, “বিনিময়ে চীন শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেবে। সেই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, উন্নত সেমিকন্ডাক্টরের সহজলভ্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগের বাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানাবে। যদি চীন তাদের ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়, তাহলে তা সেখানে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি করতে পারে।”
ঢাকা/ফিরোজ