ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩ || ২৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

শর্তসাপেক্ষে ধর্মীয় প্রতীক পরার অনুমতি দিলো কর্ণাটক সরকার

সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১৪ মে ২০২৬   আপডেট: ১২:১২, ১৪ মে ২০২৬
শর্তসাপেক্ষে ধর্মীয় প্রতীক পরার অনুমতি দিলো কর্ণাটক সরকার

ছবি: প্রতীকী

ভারতের কর্ণাটক রাজ্য সরকার ২০২২ সালে জারি করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব-সংক্রান্ত বিতর্কিত আদেশ- এর বিপরীতে নতুন এক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হিজাব-সংক্রান্ত বিতর্কিত আদেশ প্রত্যাহার করেছে। বুধবার প্রকাশিত নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা হিজাব, পৈতা বা রুদ্রাক্ষের মতো ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত প্রতীক পরিধান করতে পারবে।

নতুন এই নিয়মে কোনও শিক্ষার্থীকে হিজাব বা পৈতা পরতে বাধ্যও করা যাবে না। আবার কেউ এসব পরিধান করলে তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধাও দেওয়া যাবে না। ক্লাসরুম ও পরীক্ষার হল—উভয় ক্ষেত্রেই তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তবে জাতীয় বা রাজ্য পর্যায়ের পরীক্ষার সময় কর্তৃপক্ষ চাইলে আলাদা পোশাকবিধি প্রয়োগ করতে পারবে।

আরো পড়ুন:

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী— কর্ণাটকের সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিফর্ম বহাল থাকবে। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে সীমিত পরিসরে নিজেদের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে। শর্ত হচ্ছে—এসব প্রতীক যেন ইউনিফর্মের মূল উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত না করে।

সরকার অনুমোদিত প্রতীকের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—হিজাব (মাথার স্কার্ফ), পৈতা বা পবিত্র সুতা, শিভাধারা, রুদ্রাক্ষ এবং শরবস্ত্র। 

স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে এই নীতি ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীনভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় ১২শ শতাব্দীর সমাজ সংস্কারক বাসভান্না-র ‘ইভা নামাভা’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার উল্লেখ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কর্ণাটকের তৎকালীন সরকার ‘সাম্য, সংহতি ও জনশৃঙ্খলা’র কথা উল্লেখ করে হিজাব পরে ক্লাসে আসার ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই সময় উদুপি-র একটি কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে বিতর্ক ও আইনি লড়াই শুরু হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হিন্দু শিক্ষার্থীদের একাংশ গেরুয়া শাল পরে কলেজে আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

নতুন আদেশে বলা হয়েছে, আগের সব বিধিনিষেধ এখন থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে।  এর পাশাপাশি, নতুন নির্দেশনার পরিপন্থি কোনও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম বা প্রথাকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে 

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়