ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩ || ২৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘আমার পোলাডারে একবার ধরতে দিও, আমি নিজের হাতে মাটি দিমু’

নরসিংদী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৯, ১৪ মে ২০২৬  
‘আমার পোলাডারে একবার ধরতে দিও, আমি নিজের হাতে মাটি দিমু’

লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত করিম মিয়া।

“আমার পোলাডারে একবার ধরতে দিও, আমি নিজের হাতে মাটি দিমু”, এভাবেই বুকফাটা আর্তনাদ করে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলায় নিহত প্রবাসী করিম মিয়ার মা ময়না বেগম। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার হরনখোলা গ্রামে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজনদের সান্তনা দিতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না প্রতিবেশীরাও। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে করিমের মরদেহ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন।  

আরো পড়ুন:

সোমবার (১১ মে) রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে অবস্থানকালে ইসরায়েলের ড্রোন হামলার শিকার হন ৪৬ বছর বয়সী করিম। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর তথ্য জানান।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হরনখোলা গ্রামের কাজম আলীর ছেলে করিম প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় পাড়ি জমান লেবাননে। সেখানে একটি মুদির দোকানে কাজ করতেন তিনি। তার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার। করিম মিয়ার সংসারে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে রয়েছে।

করিমের মা ময়না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দুইদিন হইয়া গেছে, এখনো আমার পোলাডারে দেখতে পারলাম না। সামনে ঈদে বাড়ি আইতো। আমি শুধু চাই, আমার ছেলের লাশটা দেশে আনুক সরকার, যেন শেষবারের মতো দেখতে পারি।”

নিহতের স্ত্রী শরীফা বেগম বলেন, “রবিবার রাতে শেষ কথা হইছিল। সে কইছিল- আর কয়েকদিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হইয়া যাইবো। পরে হঠাৎ ফোন আইলো- কইলো, করিম আর নাই। এই কথা শোনার পর আমার দুনিয়া অন্ধকার।”

নিহতের বড় ভাই শরীফ শেখ জানান, হামলার সময় তারা একটি ঘরের ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ ওপর থেকে কিছু পড়ে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান করিম।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, “করিম খুবই শান্ত ও ভালো মানুষ আছিল। তার মৃত্যুতে পুরো গ্রাম স্তব্ধ।”

ঢাকা/হৃদয়/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়