ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে চিত্রা নদী

নড়াইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৯, ১৫ মে ২০২৬   আপডেট: ১২:২৬, ১৫ মে ২০২৬
দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে চিত্রা নদী

নড়াইলে চিত্রা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা।

‘ক্রীড়া, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, চিত্রার কোলে নড়াইল সমৃদ্ধ’ এই স্লোগানটি কেবল নড়াইলবাসীর আবেগ নয়, বরং জেলার অস্তিত্বের মূলমন্ত্র। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের তুলিতে যে নদীর রূপ বারবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে, সেই চিত্রা আজ অস্তিত্ব সংকটের শেষ প্রান্তে। দখলদারদের আগ্রাসন আর দূষণের কারণে নদীটি এখন
নালায় পরিণত হয়েছে। 

প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে চিত্রা নদীর উত্তাল দিনগুলোর কথা। যখন বড় বড় লঞ্চ, স্টিমার আর পাল তোলা নৌকার আনাগোনায় মুখর থাকত নদীর দুই পাড়। কালের বিবর্তনে উজানের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই জৌলুস এখন অতীত। নদীটি আজ নিথর, নিস্তব্ধ।

আরো পড়ুন:

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, নাব্য সংকটের সুযোগ নিয়ে নদীর বুকে থাবা বসিয়েছে প্রভাবশালীরা। নদীর দুই পাড় দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থায়ী পাকা স্থাপনা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগ নদীর পাড়ে ১৩৯টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করলেও রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে আছে।

নদী দখল নিয়ে সমাজকর্মী শরীফ মুনির হোসেন বলেন, “চিত্রা নদী আমাদের ঐতিহ্য ও পরিচয়। আমরা চোখের সামনে একটি জীবন্ত নদীকে তিলে তিলে মরতে দেখছি। অথচ প্রশাসনের ভূমিকা কেবল ফাইলবন্দি তালিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই উদাসীনতা নদীটির মৃত্যু ঘণ্টা বাজিয়ে দিচ্ছে। অবিলম্বে কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান না চালালে
পরবর্তী প্রজন্ম কেবল বইয়ের পাতায় চিত্রার নাম পড়বে।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি শাহ আলম বলেন, “সরকার নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করেছে, কিন্তু নড়াইলে এর প্রতিফলন নেই। দ্রুত নদী খনন ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা না হলে চিত্রা মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।”

নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম বলেন, “অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চিত্রা নদীর পাড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।”

ঢাকা/শরিফুল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়