ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পেঁয়াজ-আদার বাজর ঊর্ধ্বমুখি, স্বস্তি নেই ডিম-সবজিতে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৭, ১৫ মে ২০২৬   আপডেট: ১২:৪৭, ১৫ মে ২০২৬
পেঁয়াজ-আদার বাজর ঊর্ধ্বমুখি, স্বস্তি নেই ডিম-সবজিতে

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর কাপ্তান বাজার ও রায়েরবাগ বাজারে চড়েছে পেঁয়াজ-আদার দাম। ডিমের দাম আগেই ১৫০ টাকা ডজন ছাড়িয়েছে, সবজি এখনও কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকার নিচে নামছে না। ক্রেতারা বলছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজিতে বাজারে পণ্যমূল্যের দাম ঊর্ধ্বমুখি। বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন পাইকারি বাজারের ওপর।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কাপ্তান বাজার ও রায়েরবাগ বাজারে সকালে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ৩৫-৪০ টাকা। আদার দাম উঠেছে ১৭০-১৯০ টাকা কেজি। ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা ডজন। 

কাপ্তান বাজারের ক্রেতা সোহন ইসলাম বলেন, ‘‘সপ্তাহে সপ্তাহে জিনিসের দাম বাড়ছে। বেতন বাড়ে না, কিন্তু বাজার আগুন! পেঁয়াজ-আদা তো রান্নার নিত্য জিনিস, এটার ওপরও হাত দিল।”

রায়েরবাগ বাজারের ক্রেতা সালমা বেগম বলেন, ‘‘সবজি কিনতেই ৩০০-৪০০ টাকা লাগে। আগে ২০০ টাকায় হয়ে যেত। ঈদের আগে এমন হলে মানুষ চলবে কীভাবে?’’

‘‘আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। পাইকারি বাজারে প্রতিদিন ১-২ টাকা করে বাড়ে কেজিতে। ফলে আমাদেরও বেশি দামে কিনে বেশি দামে বেচতে হয়,’’ বলেন কাপ্তান বাজারের খুচরা বিক্রেতা আব্দুল কাদের। 

খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন পাইকারি বিক্রেতাদের ওপর। তাদের বক্তব্য, বেশি দামে জিনিস কিনে তো কম দামে বিক্রি করা যায় না। ‘‘কৃষকের হাত থেকে পেঁয়াজ এখন বড় ব্যবসায়ীদের গুদামে। ওরা দাম ধরে রাখে, আমাদের কিছু করার নাই। সবাই জানে কোরবানি ঈদে চাহিদা বাড়বে। আর চাহিদা বাড়লে তো দাম বাড়বেই,’’ যুক্তি শোনান রায়েরবাগ বাজারের বিক্রেতা মো. শফিক। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কৃষকের কাছ থেকে পেঁয়াজ চলে গেছে বড় ব্যবসায়ীদের গুদামে। চাহিদা বাড়ার সুযোগে তারাই দাম বাড়াচ্ছেন। রসুনের দাম অবশ্য স্বাভাবিক আছে, কারণ সরবরাহ ভালো।

ডিমের বাজারে গত সপ্তাহ থেকেই অস্থিরতা। ডজনপ্রতি ডিম ১৩০-১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দাম অবশ্য কিছুটা স্থিতিশীল। ব্রয়লার ১৭০-১৮৫ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০-৩৫০ টাকা কেজি। তবে সবজির বাজারে স্বস্তি নেই। পেঁপে ৬০-৮০ টাকা, বেগুন ৯০-১২০ টাকা। ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, ঝিঙে ৮০-১০০ টাকা। করলা, বরবটি, কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০-১২০ টাকা কেজি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানের ঈদে দাম বাড়াতে না পেরে অসাধু সিন্ডিকেট এখন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজার অস্থির করছে। তদারকি জোরদার না হলে ঈদের আগে বাজার আরও নিয়ন্ত্রণহীন হবে বলে আশঙ্কা তাদের।

ঢাকা/এএএম//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়