ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমার সার্ভিস লাগবে না: মুশফিকুর
ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ব্যর্থতার পর মুশফিকুর রহিমের ওয়ানডে দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। তার ব্যাটে রান আসছিল না। ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। আউটের ধরন নিয়ে প্রবল সমালোচনা হচ্ছিল। জায়গা ধরে রাখায় উঠছিল বিতর্ক।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগ বাড়িয়ে কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে নিয়ে সিদ্ধান্তও নিতে পারছিলেন না। মুশফিকুর বোর্ডের কাজটা সহজ করে দিয়ে নিজ থেকে সরে যান। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে মুশফিকুর ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টির তিন বছর পর ওয়ানডে থেকে সরে যান মুশফিকুর।
তবে মাস তিনেক আগে ওয়ানডে দলে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা যখন মাথাচড়া দিচ্ছিল তখন মুশফিকুর নাম আবার আলোচনায় আসে। বিশেষ করে ওয়ানডের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দায়িত্ব পাওয়ার পর মুশফিকুরকে দলে পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। নিজ থেকে মুশফিকুরের সঙ্গে কথাও বলেন মিরাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। মুশফিকুর অবসর ভেঙে ওয়ানডে দলে ফিরতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
লম্বা সময় পর মুশফিকুরকে পাওয়া গেল সংবাদ সম্মেলনে। শুক্রবার সিলেট টেস্ট শুরুর আগে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে ওয়ানডে প্রসঙ্গ উঠলে নিজের ভাবনা, অবস্থান পরিস্কার করেছেন মুশফিকুর, ‘‘ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে যেটা বলা হয়েছে, আমার কাছে অবশ্যই একটি বার্তা এসেছিল। তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশ দল এখন এমন একটি পর্যায়ে আছে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো জায়গায় যাবে। যেখানে এ ধরনের সার্ভিসের প্রয়োজন হবে না, ইনশাআল্লাহ।”
মুশফিকুরের এই সিদ্ধান্তকে পরবর্তীতে সম্মানও করেন অধিনায়ক মিরাজ, ‘‘মুশফিক ভাইর মতো খেলোয়াড় দলে থাকলে অধিনায়কের কাজ সহজ হয়ে যায়। ফিটনেস দেখলে আরও কিছু দিন খেলতে পারতেন। তবে যেহেতু অবসর নিয়ে ফেলেছেন, এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। অধিনায়ক হয়ে কথা বলেছিলাম, যেহেতু টেস্ট খেলছেন। অবসর যেহেতু নিয়ে ফেলেছেন অধিনায়ক হিসেবে আমি একার সিদ্ধান্ত তো না, সবার সিদ্ধান্তের বিষয় আছে। সবার আলোচনার একটা বিষয় ছিল। যেহেতু অবসর নিয়েছেন, এটাকে সম্মান করা উচিৎ।’’
২০০৬ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয় মুশফিকুরের। এরপর খালেদ মাসুদ জায়গা দখল করে নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করেন। এরপর এগিয়ে যান তরতরিয়ে। এক সময়ে মিস্টার ডিপেন্ডবল উপাধিও পান। ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৯ এবং ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছেন। উইকেট রক্ষক হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপের ম্যাচ রেকর্ডটা তারই দখলে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে ২৭৪ ওয়ানডে খেলেছেন মুশফিকুর। রান করেছেন ৭ হাজার ৭৯৫। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে তার রেকর্ড পিছিয়ে নেই। ওয়ানডেতে উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে ৭ হাজার ২৫৪ রান করেছেন। রানের হিসেবে তার চেয়ে এগিয়ে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাহেন্দ্র সিং ধোনি ও কুমার সাঙ্গাকারা। তবে ১৯ বছরের লম্বা ক্যারিয়ার হলেও বৈশ্বিক আসরে বড় কোনো শিরোপা জেতাতে পারেননি দলকে।
সিলেট/ইয়াসিন