ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৫ ১৪৩২ || ১৯ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাগমারার বাবু হত্যা: হুইপ দুলুসহ সকল আসামি খালাস

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৫, ৭ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২০:২৬, ৭ এপ্রিল ২০২৬
বাগমারার বাবু হত্যা: হুইপ দুলুসহ সকল আসামি খালাস

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বহুল আলোচিত মনোয়ার হোসেন বাবু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ সব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (চতুর্থ) আদালতের বিচারক মো. শামসুল আল-আমীন এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২২ বছর পর এ রায় ঘোষণা করা হয়।

আরো পড়ুন:

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল ‘সর্বহারা নিধন’-এর নামে মনোয়ার হোসেন বাবুকে বাগমারার একটি মাঠ থেকে তাড়া করে ধরে পলাশি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রকাশ্যে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আসামিরা ‘বাংলা ভাই জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দিতে হামিরকুৎসা গ্রামের জেএমবি ক্যাম্পের দিকে চলে যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

ওই ঘটনার পর নিহতের বাবা মহসিন আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে মোট ৫০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে ছয় আসামির মৃত্যু হয়। অবশিষ্ট ৪৪ জনের মধ্যে ১২ জন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। ৩২ জন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেন।

মামলায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি আসামি ছিলেন। আসামিদের তালিকায় ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রয়াত সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফা।

এছাড়া জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল এমন কয়েকজনের নামও ছিল মামলার অভিযোগপত্রে। তাদের মধ্যে ছিলেন জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড বাগমারার মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে কিলার মোস্তাক, জেএমবির দুর্ধর্ষ ক্যাডার মাহাতাব খামারু ও আবদুল মতিন ওরফে বোমারু মতিন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রইসুল ইসলাম জানান, মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও কোনো সাক্ষীই আসামিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে প্রমাণের অভাবে আদালত সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মামলাটিতে প্রথমে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল। পরবর্তীতে ওয়ান-ইলেভেন সময়কালে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাসহ অন্যান্যদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিএনপি নেতাদের আসামি করা হয়েছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।

ঢাকা/মাহী/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়