ঢাকা     সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৪ ১৪৩২ || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাজ থেকে রুদ্রনীল, রূপা থেকে লাভলি—ওপার বাংলায় তারকা প্রার্থীদের ছড়াছড়ি

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৩, ৬ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২০:০৪, ৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজ থেকে রুদ্রনীল, রূপা থেকে লাভলি—ওপার বাংলায় তারকা প্রার্থীদের ছড়াছড়ি

ছবির কোলাজ

অভিনেতা, সংগীতশিল্পী, ক্রীড়াবিদসহ কয়েকজন তারকাকে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানে সাফল্য পেয়েছিল আনকোরা এই মুখগুলো। স্বাভাবিকভাবে ল্যান্ডস্লাইড জয় পায় তৃণমূল কংগ্রেস। ৩৪ বছরে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল সরকার।   

এরপর মমতা ব্যানার্জির দেখানো পথেই হাঁটতে শুরু করে বিজেপি ও বামদলগুলোর সম্মিলিত জোট বামফ্রন্ট। বিধানসভা কিংবা লোকসভা নির্বাচনে তারকা প্রার্থীদের যোগদান ক্রমশ বাড়তে থাকে। যদিও সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন বিনোদন জগতের তারকারা। দেব (দীপক অধিকারী), তাপস পাল, শতাব্দী রায়, মুনমুন সেন, শত্রুঘ্ন সিনহা, সন্ধ্যা মুখার্জি, হিরণ চ্যাটার্জি, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ—একের পর এক তারকা প্রার্থীরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

আরো পড়ুন:

সেই ধারা এখনো অব্যাহত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বিজেপিও একাধিক সেলিব্রিটিকে প্রার্থী করেছে। যদিও এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বামদলগুলো। 

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় বিনোদন দুনিয়া থেকে জায়গা পেয়েছেন সোনারপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রী লাভলী মৈত্র, চৌরঙ্গী কেন্দ্রে অভিনেত্রী নয়না ব্যানার্জি, বরানগর কেন্দ্রে অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, মানিকতলা কেন্দ্রে অভিনেত্রী শ্রেয়া পান্ডে, করিমপুর কেন্দ্রে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী, ব্যারাকপুর কেন্দ্রে পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। এছাড়াও তৃণমূলের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি, চন্দননগর কেন্দ্রে সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন, তুফানগঞ্জ কেন্দ্রে সাবেক ক্রিকেটার শিব শংকর পাল, সপ্তগ্রাম কেন্দ্রে সাবেক ফুটবলার বিদেশ বসু প্রমুখ।

আসন্ন নির্বাচনে একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রার্থী করেছে বিজেপি। তারকা প্রার্থীদের মধ্যে শিবপুর কেন্দ্রে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, শ্যামপুর কেন্দ্রে হিরণ চ্যাটার্জি, যাদবপুর কেন্দ্রে অভিনেত্রী শর্বরী মুখার্জি, টালিগঞ্জ কেন্দ্রে অভিনেত্রী পাপিয়া দে অধিকারী, সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলি। অন্য জগতের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—সংগীতশিল্পী অসীম সরকার, তিনি হরিণঘাটা কেন্দ্র থেকে লড়ছেন, ময়না কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার অশোক দিন্দা।  

এ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের ভিন্ন মত রয়েছে। ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী বলেন, “মানুষ কাজের নিরিখেই ভোট দেয়। কাজের নিরিখে মানুষ এখানকার সরকার নির্ধারণ করবে। প্রার্থীদের যে পেশা থেকেই নিয়ে আসা হোক না কেন, বাংলার মানুষ ঠিক করে ফেলেছেন তারা তৃণমূলকে ভোট দেবেন, তৃণমূলের সরকার হবে এবং চতুর্থবারের জন্য মমতা ব্যানার্জিকে মুখ্যমন্ত্রী করবেন।”  

তারকা প্রার্থীদের নিয়ে সমালোচনা করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী এবং সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, তারা যে পেশায় ছিলেন সেই পেশায় রোজগার কমে গেছে, তাই বিকল্প পেশা হিসেবে রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন। তবে প্রথমে কেন তারা আসেননি তা জানি না। কিন্তু রাজনীতিও একটা খেলার ময়দান। সেই খেলায় যদি অন্য জগতের খেলোয়াড়রাও আসে তবে খেলা আরো জমে উঠবে।”  

পানিহাটি কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত খানিকটা সমালোচনা করতে পিছপা হননি। তার ভাষায়, “তৃণমূল বা বিজেপির যেই প্রার্থী হোক না কেন, এরা মানুষের জন্য কোনো কাজ করেনি। গত ১০-১৫ বছরে তা প্রমাণ হয়েছে। ফলে কে গুরুত্বপূর্ণ সেটা বড় কথা নয়, মানুষের জন্য কী কাজ হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”  

মানুষের জন্য কাজ না করলে মানুষই বিক্ষোভে ফেটে পড়বেন বলেও মত কলতান দাশগুপ্তর। তিনি বলেন, “লোকে যাতে টিভিতে দেখে এবং সেটা দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার একটা চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু মানুষের জন্য কাজ না হলে পাঁচ বছর পর সেই মানুষই বিক্ষোভে ফেটে পড়বেন।”  

নির্বাচনি ময়দান দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারকা প্রার্থীরা। তবে বছরের অন্য সময়ে তারকা প্রার্থীদের জনসমক্ষে খুব একটা দেখা না গেলেও, নির্বাচনের এই কটা দিন সাধারণ মানুষ হয়ে যান। ভোটারদের মন জয় করতে এরাই রোদে পুড়ে, বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দরজায় দরজায় ভোট প্রার্থনা করেন। প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেন। মনে মনে ক্ষোভ থাকলেও তারকা প্রার্থীদের কাছে পেয়ে সব ক্ষোভ ভুলে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে ভোটাররাও।

তারকা প্রার্থীদের সান্নিধ্যে আসা, হাতে হাত মেলানো, ছবি তোলা, সেলফি তোলা—কোনো কিছুই অপূর্ণ থাকে না। আর সেখানেই হয়তো প্রাথমিক জয়টা পেয়ে যান তারকা প্রার্থীরা। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই বিভিন্ন পেশার তারকাদের নিজদের দলের প্রার্থী করে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলো।

ঢাকা/শুভজিৎ/শান্ত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়