ঢাকা     শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ সফর ১৪৪২

টিকটক-লাইকি সেলিব্রেটিদের ভাইরালের পেছনে কারা দায়ী  

খন্দকার রবিউল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০২, ১০ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
টিকটক-লাইকি সেলিব্রেটিদের ভাইরালের পেছনে কারা দায়ী  

পথচারীকে মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার হয় টিকটক লাইকি সেলিব্রেটি ‘অপু ভাই’। তারপরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের কথিত টিকটক-লাইকি সেলিব্রেটিদের গ্যাং কালচার, অশ্লীল কনটেন্ট, অসামাজিক আচরণ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। কথিত এসব সেলিব্রেটিদের ভাইরালের পেছনে আপনার-আমার কি কোনো দায় নেই?

এ বিষয়ে কথা বলার আগে আমি কিছুটা পেছনে ফিরে যেতে চাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘হিরো আলম’, ব্যক্তি হিসেবে আমি তাকে যথেষ্ট সম্মান করি। কিন্তু একজন অভিনেতা হিসেবে সে কতটা যোগ্য? এই প্রশ্ন থেকেই যায়।

কিন্তু শুধু আমাদের হাসি-ঠাট্টা আলোচনা-সমালোচনার জন্য আজ যেকোনো প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা অভিনেত্রীর চেয়ে একজন টিকটক-লাইকি সেলিব্রেটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলোয়ার সংখ্যা ও সামগ্রিক পরিচিতি বেশি। এখন হিরো আলমের এই পরিচিতি কি হিরো আলম নিজের কাজের যোগ্যতায় করেছে? হিরো আলম আজকে তার এই অবস্থানে আসতে পেরেছে শুধু আমাদের আলোচনা-সমালোচনার জোরে। 

সামাজিক মাধ্যম মূলত এভাবেই কাজ করে, আমরা যাকে নিয়ে যত বেশি কথা বলবো, ঠিক তার কনটেন্ট তত দ্রুত ছড়াবে। শুধু হিরো আলম নয়, উদ্ভট, অসামাজিক, অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করে এমন আরও অনেকেই শুধু আমাদের হাসি-ঠাট্টা, আলোচনা-সমালোচনার জোরে আজ পরিচিতি পেয়েছে, কথিত ফেসবুক সেলিব্রেটি হয়ে গেছে।

ঠিক তেমনিভাবে কথিত এসব টিকটক-লাইকি সেলিব্রেটি, যাদের ফলোয়ার সংখ্যা মিলিয়ন মিলিয়ন, তারা কিন্তু হুট করে এই অবস্থানে চলে আসেনি। আমরাই তাদের হাসি-ঠাট্টার উপকরণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলাতে শেয়ার করেছি। ফলে দিনে দিনে তাদের পরিচিতি বেড়েছে। তাদের যে টার্গেট অডিয়েন্স উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীরা, তারা খুব সহজেই তাদের আরও কাছে পৌঁছে গেছে। 

লাইকি-টিকটকে উদ্ভট ভিডিও করে জনপ্রিয় হওয়ার যে কালচার, সে কালচার দিন দিন বৃদ্ধি পাবে এবং পাচ্ছে। কারণ, একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের, বিচার করার ক্ষমতা স্বভাবতই কম থাকে। ফলে এই কালচার তাদের আকর্ষণ করবে। তাহলে সমাধান কী?  

বর্তমানে অনেকেই বলছে টিকটক-লাইকি অ্যাপ ব্যান করে দিতে, পার্শ্ববর্তী দেশের উদাহরণ টানছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ মূলত তাদের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জন্য টিকটক লাইকি ব্যান করেছে, কনটেন্টের জন্য নয়। আমাদের দেশে এসব অ্যাপ ব্যান (নিষিদ্ধ) করে দেওয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে অনেকটা মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার মতো শোনায়। প্রথমত, এ ধরনের কনটেন্ট কি তারা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে পাবলিশ করতে পারবে না? অবশ্যই পারবে। 

দ্বিতীয়ত, টিকটক-লাইকি সারা বিশ্বে নতুন করে জনপ্রিয় হওয়া অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপ। বর্তমান সময়ে সর্বাধিক ডাউনলোড হওয়া অ্যাপগুলোর মধ্যে টিকটক অন্যতম। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই অ্যাপগুলো বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধানই হতে পারে না।

বরং আমরা যদি সিদ্ধান্ত নেই, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বদা ভালো কনটেন্ট শেয়ার করবো। যেকোনো উদ্ভট, অসামাজিক কনটেন্ট এড়িয়ে যাবো। তাহলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা সময় পর ঠিকই সেসব কনটেন্ট ভাইরাল হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। অপু ভাই, মামুন বা কথিত এসব সেলিব্রেটিও আর তৈরি হবে না।

লেখক: শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ (দ্বিতীয় বর্ষ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

বশেমুরবিপ্রবি/মাহি

রাইজিংবিডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়