RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২১ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৭ ১৪২৭ ||  ০৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ক্যাম্পাসে তাদের স্মৃতি

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৩, ২৮ নভেম্বর ২০২০  
ক্যাম্পাসে তাদের স্মৃতি

ক্যাম্পাসের আড্ডার সঙ্গী প্রিয় চা। চায়ের আড্ডায় ভরপুর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। এখানে সবার সঙ্গে সবার যোগাযোগ ধরে রাখার মাধ্যম হচ্ছে চায়ের কাপের আড্ডা। এসময় থাকে না কোনো সিনিয়র জুনিয়র ভেদাভেদ। সবাই একসঙ্গে মেতে ওঠে খুনসুটিতে। 

ক্যাম্পাসে সদ্য আসা জুনিয়র থেকে মাস্টার্স পাস অথবা চাকরির ক্ষেত্রে প্রবেশ করা সিনিয়র সবার সঙ্গে সম্পর্কের সুতো বেঁধে দেয় এই চায়ের কাপের আড্ডা। প্রতিটি ক্যাম্পাসের মোড়ে মোড়ে কিংবা চত্বরের চায়ের দোকানগুলোতে গড়ে ওঠে বছর চারেক হাজারো স্মৃতি হাজারো গল্প। করোনায় ঘরবন্দি অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মনে সেই স্মৃতিগুলো নাড়া দিয়ে ওঠে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ক্যাম্পাসে চায়ের আড্ডার স্মৃতিগুলো তুলে ধরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।

ছিদ্দিক ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির স্বপন মামার চায়ের দোকানের চা খেয়ে আমার সকাল শুরু হতো। সারাদিনের ব্যস্ততার অবসান ঘটিয়ে হলের দিকে রওয়ানা হওয়ার সময়ও এই চা-ই পরম উপাদেয়! দীর্ঘ ছুটিতে ক্যাম্পাসের কাটানো মুহূর্তগুলোর সঙ্গে চা খাওয়া ও মিস করছি। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে গল্পের সাথী এই চা। ক্যাম্পাস সময়ে চায়ের সঙ্গে চলে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি আর তত্ত্ব নিয়েই আলোচনা। কোভিডের অবসান ঘটিয়ে কখন আবার সেই পরম উপাদেয় পানীয়ের সঙ্গে সকাল হবে! সেই সকালের অপেক্ষায় প্রহর গুণছি। 

রাজু আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো ক্যাম্পাস লাইফ। যা তার সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকে। আর এর মধ্যে অন্যতম হলো ক্যাম্পাসের চায়ের আড্ডা। মানুষের সুস্থ থাকার জন্য আড্ডা আর একরাশ হাসি, যেকোনো দামি ওষুধের থেকে বেশি কার্যকরী। যখন একটা গুমোট, গোমড়া পরিবেশ নিজের চারদিকে তৈরি হয়, তখন সেটা শরীর, মন দুটোর উপরেই প্রভাব ফেলে। মানুষের মন এমনই অদ্ভূত। সারাদিন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা ও ভাইভা শেষে মনটাকে সতেজ করার জন্য বালুর মাঠে হাফিজ মামার চায়ের দোকানে এক কাপ চা যেন সব ক্লান্তি দূর করে। 

ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বালুর মাঠে সারিবদ্ধ চায়ের দোকানে হাজারো স্বপ্নের আড্ডা হয় এছাড়াও রয়েছে লিপুস ক্যান্টিন ও বাধণ চত্বর। করোনার কারণে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, আড্ডা ও গল্পের সঙ্গে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া, যা আজ ঘরবন্দি জীবনে সবচেয়ে বেশি মিস করছি।

আব্দুস সবুর লোটাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অদৃশ্য এক পরজীবী এসে ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত জীবণযাপনকে করলো ঘরবন্দি। প্রতিদিনের কোলাহল, আড্ডা, খুনসুটি তর্ক-বিতর্ক সব কেড়ে নিলো। জীবনকে করে তুললো আত্মকেন্দ্রিক। এতে মনের ভেতর বাসা বেঁধে নিলো হাহাকারের। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিদিনে রুটিন মাফিক ক্লাসের মতো সপ্তাহের বিভিন্ন দিন বিভিন্ন চায়ের স্টলে আর বসা হয় না। ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক স্থান এনামুল ভাইয়ের চায়ের দোকানে আর রাজনৈতিক-সাংস্কৃতি আলাপ হয় না, যুগলদের প্রিয় স্থান নাসির ভাইয়ের স্টলে বসে আর কোনো অপরিচিতার সঙ্গে চা পান করা হয় না। 

টুকিটাকিতে ক্লাস নোট নিয়ে কোনো বন্ধুদের সঙ্গেও আর বসা হয় না। ক্যাম্পাসের মিনি পার্লামেন্ট সব বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে সংসদের সদস্যরাও। সব যেনো দীর্ঘ অতীত হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সবার স্বাস্থ্যের অনুকূলে আসলে অতি দ্রুতই যেন সবার আগে ক্যাম্পাস খোলা হয়। প্রতিটি দিন কাটে আবারও কবে চায়ের কাপ নিয়ে সবার সঙ্গে বসতে পারবো।

রবিউল হাসান সাকীব, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের পার্কের মোড় এলাকায় রাস্তার দুইধারে তাকালেই দেখা যাবে কিছু টঙ দোকানে বসে ধোয়া ওঠা চায়ে চুমুক দিতে দিতেই বিশ্বরাজনীতি আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে বিচরণ করছে কিছু তরুণ। আর একদল আবার গিটারের টুংটাং শব্দে মিশে গেছে এক অন্য ভুবনে, তাদেরও সঙ্গী এক কাপ চা। বলছিলাম রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং গেট সংলগ্ন পার্কের মোড় এলাকার কথা। তরুণ এসব শিক্ষার্থীদের নিত্য দিনের সঙ্গী চায়ের আড্ডা, এটা ছাড়া যেন দিনটি প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে এই মেধাবীদের কাছে। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনসহ নানা ব্যস্ততায় মানসিক অবসাদ কাটাতে সেই আড্ডায় এক কাপ চা এনে দেয় অন্য মাত্রা। 

ক্যাম্পাস জীবনে এই চায়ের আড্ডা ছাড়া জীবন অলস ও অসাড় মনে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাফেটেরিয়া কিংবা টঙয়ের দোকানে কাটানো সেই সময়ে এক কাপ চা যেন একটা ক্লান্ত প্রাণকে মুহূর্তেই করে সতেজ, সজীব। করোনার এই ভয়াল গ্রাসে থেমে গেছে এসব প্রাণবন্ত আড্ডাগুলো। পৃথিবী সুস্থ হলে আবার দেখা মিলবে এই প্রাণের আড্ডা, সরব হয়ে উঠবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, এই প্রত্যাশায় দিনগুণছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

জবি/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়