Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ২৯ ১৪২৭ ||  ২৮ শা'বান ১৪৪২

বয়ঃসন্ধিকালে প্রিয় মানুষের বাড়তি সহযোগিতা প্রয়োজন 

মোহাম্মদ রায়হান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪০, ৩ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৪:৪০, ৩ মার্চ ২০২১
বয়ঃসন্ধিকালে প্রিয় মানুষের বাড়তি সহযোগিতা প্রয়োজন 

কেবল বয়ঃসন্ধিতে পা রাখা আনা ফ্রাঙ্ক। বন্দিদশায় থাকাকালে নিজের মায়ের সঙ্গে তার মানসিক সংঘাতটা সবচেয়ে বেশি হতো। কোনোরকম মানসিক মিলই সে খুঁজে পেতো না। 

সবসময় ভাবতো, সে তার মায়ের দু’চোখের বিষ। সব কিছুতেই বাধা দিতো। অন্য দিকে পিটার নামক ছেলেটি ছিল তার খুব প্রিয়। তাকে ভালোবাসা শুরু করে আনা। পিটারকে ভাবতে ভালো লাগে, পিটারের চোখে তাকিয়ে থাকতে, ওর সঙ্গে সময় কাটাতে, জড়িয়ে ধরতে ভালো লাগতো আনা ফ্রাঙ্কের।

এমন স্বভাব এবং ক্ষণিক মানসিক বিপর্যস্ততা আমরা সবাই পার করি। কেউ নিজেদের ধরে রাখতে পারি, আবার কেউ পারি না, বুঝি না। আনা মেয়েটি তার মাকে ঠিক বুঝতে পারেনি। পরে বোঝার বয়স হওয়ার আগেই যদিও সে মারা যায়, আমাদের বোঝার বয়স কিন্তু যথেষ্ট হয়েছে।

সাধারণত ১০/১২-১৭/১৮ বছর বয়সটাকে আমরা বয়ঃসন্ধি কাল ধরেই নিতে পারি। কারো ক্ষেত্রে হয়তো এর আগে বা পরে বয়ঃসন্ধি কাল শুরু হতে পারে। সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিটা একটু আগেই শুরু হয়। বয়ঃসন্ধিকালের ছেলে-মেয়েদের কিশোর-কিশোরী বলা হয়। এই সময়টা তাদের একটা সংকটময় মুহূর্ত। নানা প্রতিকূলতা কাটাতে হয়, নানা সংকটময় মুহূর্ত তাদের অতিক্রম করতে হয়। পরিবর্তনের ঝড় বয়ে যায় সবার উপর দিয়ে। এত কিছুর পরও আমাদের টিকে থাকতে হয় ঠিকি। বয়ঃসন্ধিকালের সময়টা আবার সুসময়ও বটে। 

বয়ঃসন্ধিকালের সময়টায় কিশোর কিশোরীদের দুরকম পরিবর্তন হয়- ১. শারীরিক ২. মানসিক পরিবর্তন।  শারীরিক পরিবর্তনটা আমরা সবাই দেখি ও বুঝতে পারি। কিন্তু মানসিক পরিবর্তনটা বুঝতে হলে প্রয়োজন একটু মনোযোগ। সাধারণত এই সময়েই কিশোর কিশোরীরা নানা মানসিক অসামঞ্জস্যতায় ভোগে। কোনটা ঠিক, কোনটা ঠিক নয়, সেটা নির্বাচন করা খুবই দুরূহ হয়ে যায় তাদের জন্য। 

দোটানা থাকলেও ভুল সিদ্ধান্তের দিকেই ঝোকে বেশিরভাগ। নানা রকম শারীরিক পরিবর্তনের ফলে মানসিক পরিবর্তন ও ঘটে যায়। নিজেদের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ভাবা শুরু করে, যথেষ্ট বুজবান একজন মনে করে নিজেকে। অন্যদিকে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ এমন প্রকট হয় যে, কেউ এই প্রবণতার প্রতিকূলে হস্তক্ষেপ করলে কিশোর-কিশোরীরা তাদের প্রতি বিকৃত আচরণের দিকে ধাবিত হয়। এভাবেই ঠিক বাকি সব ক্ষেত্রে কাছের মানুষের হস্তক্ষেপে তাদের সঙ্গে শুরু হয় মানসিক সংঘাত। যেহেতু এই সময়টায় তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা সঠিক পথ বেঁছে নেওয়া খুবই কষ্টকর, তাই অবশ্যই প্রয়োজন কাছের মানুষের সহানুভূতি এবং সহযোগিতা।

পরিবারের সঙ্গে, বাবা-মায়ের সঙ্গে মানসিক সংঘাতের অনেক কারণ থাকলেও সর্বপ্রধান হলো নিজেদের স্বাধীনভাবে চলার যে মানসিকতা, তাদের সে সময়টায় অভিভাবক থেকে আলাদা থাকতে চায় এবং আরো স্বাধীন হতে চায়। আবেগের উত্থান-পতন ও এমন সংঘাতের কারণ হতে পারে৷ সাধারণত এই সময়টাতে পিতামাতা তাদের সন্তানের ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বীগ্ন থাকেন। কেননা তাদের বাধ্য সন্তানরাই হুট করে কেমন অবাধ্য হয়ে উঠে। বাবা-মা তখন বুঝে উঠে না তাদের কী করা উচিত। বেশিরভাগ মাতা পিতাই একই জায়গায় চিন্তা-

-বন্ধুত্ব এবং ঠাট্টা করার জায়গা
- তাদের আদেশের মূল্য না দেওয়া
- বিনা অনুমতিতে বেশিক্ষণ বাইরে থাকা
-মোবাইল ফোন আশক্তি
- মাদকাশক্তি ইত্যাদি।

বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর কিশোরীদের প্রতি মাতা-পিতার কিংবা কাছের মানুষের পাশে দাঁড়ানো একান্ত প্রয়োজন। তাদের সঙ্গে সব কিছু খোলাখুলি আলোচনা করা, শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে আলোচনা, মানসিক অভয় দান কিংবা অন্যান্য দিক দিয়ে পাশে দাঁড়ানো। এছাড়াও একজন দায়িত্ববান এবং যত্নশীল পিতামাতা হিসেবে অনেক কিছুই করা যেতে পারে।

১. সন্তান যখন স্বাভাবিক চোখে দৃষ্টিকটু এমন কিছু করে, যেমন অস্বাভাবিক হেয়ার কাট, সিগারেটে আসক্তি-তাহলে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন আপনার দৃষ্টিকটু লাগার বিষয়ে।

২. তাকে নিয়ে আলাপ করুন-সে অস্বাভাবিক অনুভব করছে কিনা, মন খারাপ কিনা, অথবা  ভয় পাচ্ছে কি কিছু নিয়ে? কেমন অনুভব করছে।

৩. সন্তানের বন্ধুবান্ধব সম্পর্কে জানুন। তাদের মাতা পিতা সম্পর্কে জানুন।

৪. তার অস্বাভাবিক আচরণ যেমন-অনীদ্রা, ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা কমে যাওয়া, দুশ্চিন্তা, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা ইত্যাদি আচরণের প্রতি লক্ষ রাখুন।

৫. সন্তানের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ধরে রাখতে সহযোগিতা করুন।

৬. আপনার জায়গায় সন্তান যেন নিজেকে ভাবতে পারে, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন।

৭. সন্তানের সাথে ঠাট্টা, মজা করুন। বিনোদনেরও প্রয়োজন মাঝে মাঝে।

সর্বোপরি, আপনার সন্তানের প্রতি আপনাকেই যত্নশীল হতে হবে। আপনি কিংবা আপনার সন্তানের প্রিয়জনকেই পাশে থাকতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

ঢাকা/মাহি 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়