ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

সাদমান রাকিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ৭ এপ্রিল ২০২৪   আপডেট: ১৭:৫৮, ৮ এপ্রিল ২০২৪
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পরে ঈদুল ফিতরের আগমন ঘটে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই মিলে ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে মোলাকাতের মাধ্যমে সব ভেদাভেদ দূর করে। ঈদ আনন্দ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা তাদের ভাবনা তুলে ধরেছেন।

ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে

ঈদুল ফিতর হলো- ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পরে ঈদুল ফিতর নিয়ে আসে উৎসব আর আনন্দের বন্যা। পড়ালেখা কিংবা পেশাগত কারণে দূরদূরান্তে অবস্থান করা সবাই পরিবারের কাছে ছুটে আসে শেকড়ের টানে, ভাগাভাগি করে নেয় ঈদ আনন্দ। গ্রামে যাওয়া ছাড়া ঈদ আনন্দ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। ঈদ উপলক্ষে আত্মীয় স্বজনরা বেড়াতে আসে কিংবা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া এক অন্যরকম আনন্দ বিরাজমান থাকে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব আঙ্গিকে এই ঈদ উৎসব উদযাপন করে থাকে। শ্রেণিবৈষম্য পরিহার করে ঈদের নামাজ শেষে প্রতিটি মুসলমানের কোলাকুলির, দৃশ্য পৃথিবীর একটি অন্যতম সুন্দর দৃশ্য। এদিন ধনী গরিব সবাই আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে। ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক ঈদের আনন্দ, আর বিকশিত হোক ভ্রাতৃত্ব বোধ। 
- আজহারুল হক মিজান, শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঈদ বরাবরই আনন্দের

ঈদ বরাবরই আমার প্রিয় একটা অনুভুতি। ছোটবেলায় ঈদের আমেজ অন্যরকম ছিল। ঈদ‌ কার্ড বিতরণ, ঈদের শপিং, চাঁদ রাতে মেহেদি দেওয়া, ঈদের দিনের সালামি,‌ সুস্বাদু খাবার, আত্নীয়দের বাসায় ঘুরতে যাওয়া আরও কত কি! গত পাঁচ বছর ঘরের বাইরে, খুব বেশিদিনের বন্ধ না দিলে সাধারণত বাসায় যাওয়া হয়ে উঠে না। তাই এখন যত বড় হচ্ছি, মনে হচ্ছে পরিবারের সঙ্গে কাটানো প্রতিদিন যেন ঈদের দিন। দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে একদম ১৫-১৭ রোজা পর্যন্ত খোলা থাকে। রোজার প্রতিটি দিন নিজ থেকে ইফতার, সেহেরির ব্যবস্থা করা যেন এক বিশাল যুদ্ধ। তাই আমার কাছে আসলে ছোটবেলার চেয়ে এখন ঈদ বেশি স্পেশাল। ছোটবেলার ঈদ যেমন অন্যরকম ছিল, এখন ঈদ আরেকটু ভিন্নতর। কিন্তু ঈদ বরাবরই আনন্দের,‌ শান্তির এবং স্বাচ্ছন্দ্যের।
-হানিয়া বিনতে আসলাম, শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কাটানো ঈদ সবচেয়ে আনন্দের

সুদীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ প্রতিটি মুসলমানের ঘরে নিয়ে আসে আনন্দের সওগাত। সারা বছরের ব্যস্ততা শেষে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা সত্যিই অনেক আনন্দের। বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বছর ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, সেমিস্টার ফাইনাল, টিউশন এসব নিয়ে আমরা অনেক ব্যস্ত থাকি। ঈদুল ফিতরের সময় হল ছেড়ে বাড়ি যাওয়া, পরিবারের সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা করা আমাদের অন্যরকম অনুভূতি দেয়। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয় এবং সবাই মিলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা যায়।
-তামজিদ হোসেন, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সবার ঈদ ভালো কাটুক

বাইরে থাকার সুবাদে বছরে চারবার বাড়ি যাওয়া হয়। দুই ঈদে, পূজায় আর শীতের বন্ধে। সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর অনুভূতি হয় রোজার ঈদে। রোজার প্রথম দিন থেকে বাড়ি যাওয়া নিয়ে ক্ষণ গণনা শুরু হয়। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ছোটবেলায় বাবা-মা ঈদে নতুন জামা কিনে দিত। এখন তাদের জন্য ঈদ উপহার কিনে নিয়ে গেলে আলাদা প্রশান্তি কাজ করে। এছাড়াও বাইরে থাকার কারণে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন সবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়।

ছোট বেলায় নামাজ পড়ে সবার থেকে সালামি নেয়ার যেই রেওয়াজ ছিল, বড় হওয়ার সাথে সাথে এখন আর নিতে নয়, ছোট ভাইবোনদের সালামি দেওয়ার মধ্যেই আনন্দ কাজ করে। পুরাতন সব বন্ধুদের সঙ্গে মন খুলে আড্ডা, ঘুরাঘুরি কোনোটার কমতি হয় না। তাছাড়া মায়ের হাতের রান্নার কথা না বললেই নয়। সব মিলিয়ে এইদিনগুলির জন্যই এই ঈদটা আমার কাছে স্পেশাল। সবার ঈদ ভালো কাটুক এই প্রত্যাশা করি।
-তানজিম সৌরভ, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাতেই আনন্দ 

নিজ বিভাগের বড় ভাইদের কাছে সালামি চাওয়া আর জুনিয়রদেরকে সালামি দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানত ঈদের অনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ক্যাম্পাসে। তারপর আসে প্রতীক্ষার শেষ হবার পালা। হলে, মেসে অখাদ্য আর কুখাদ্যের পর্ব শেষে এ যেন অমৃতের স্বাদে ডুব দেয়া। যুগের সাথে তাল মেলাতে ফ্যান ফলোয়ারদের সঙ্গে সেলফি তোলা আরেকটু বাড়তি সংযোজন। যা হোক, ঈদের খুশি যাতে সব জায়গায় পৌঁছে, সেই দায়িত্বটাও কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। তাই আমাদের দ্বারা ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক দেশের সব সুবিধা বঞ্চিতদের কাছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো বাড়ির আশেপাশের গরিবদের মাঝে গিফট প্রদানের মাধ্যমে সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি। তাহলেই আমাদের ঈদের আনন্দ স্বার্থক হবে। ঈদ মোবারক।
-আরাফাত উদ্দিন খান শিফাত, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ঈদ আনন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্যস্থান পূরণ করে

ঈদ শব্দটা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবনে সবচেয়ে প্রিয় শব্দ হওয়ার দাবি রাখে। পুরো বছর জুড়ে একটানা ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, টিউশনি, সাংগঠনিক কার্যক্রমসহ নানা কাজ করতেই তো শিক্ষার্থীদের হাপিত্যেশ উঠে যায়। বাড়ি যাওয়ার আর সময় কই? অন্যান্য সময়ে স্বল্প সময়ের ছুটি পেলেও বাড়ি থেকে ভার্সিটির দূরত্বের কথা চিন্তা করলে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মনের টানকে উপেক্ষা করে। ব্যতিক্রম এখানে, ঈদের দীর্ঘ ছুটি। বাড়িতে একসঙ্গে ইফতার, ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ঈদের নামাজ, ঈদের ঘোরাঘুরি সবমিলিয়ে স্বপ্নের মতো সময়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্যস্থানগুলো পূরণ করে দেয়। সবার ঈদ ভালো কাটুক।
-মীর নিশাত রহমান, শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ঈদের আনন্দ যেন স্বর্গীয় অনুভূতি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আমাকে পরিবার, আত্নীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব থেকে দূরে অবস্থান করতে হচ্ছে। পুরো সেমিস্টারব্যাপী ক্লাস, পরীক্ষাসহ নানা কার্যক্রম থেকে মুক্ত হয়ে যখন আপন নীড়ের উদ্দেশ্য রওনা হই, তখন মনের মধ্যে ‘স্বপ্ন বাড়ি যাবে আমার’ গানটি বাজতে থাকে। অ্যাকাডেমিক ব্যস্ততা ছাপিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবারকে কাছে পাওয়া, পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, ইফতার পার্টি, শপিং, ঈদের নামাজ, সালামি, আত্নীয়দের বাসায় যাওয়া- এসব যেন স্বর্গীয় অনুভূতি।
-মো. সাইফুল হাসান রাফি, শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়

সবাই মিলে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করি

ঈদ মানে পরিবারের সঙ্গে এক টেবিলে বসে মায়ের হাতের হরেক রকমের অমৃত রান্না খাওয়া, আত্নীয়-স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া, প্রতিবেশীদের খোঁজ-খবর নেওয়া, স্কুল-কলেজ বন্ধুদের দীর্ঘদিন পর আড্ডা দেওয়া- সর্বোপরি সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা। ঈদ আমাদের দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার প্রতিযোগিতায় এক স্বর্গীয় প্রশান্তি এনে দেয়। তবে ঈদ আরও স্বার্থক হবে, যখন সমাজে ধনী গরীবের পার্থক্য থাকবে না,সবাই সমান ভাগে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবো। আর সেটা তখনই সম্ভব যখন আমরা রমজানের শিক্ষাটাকে ধারণ করতে পারবো বুকে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের ঈদ আনন্দটা সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। যা আমাদেরকে আত্মকেন্দ্রীক করে ফেলছে। সে জগৎ থেকে বেরিয়ে সবার সঙ্গে মিলেমিশে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান রইলো সবার কাছে। নয়তো পরবর্তী প্রজন্ম এ ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে। সবার ঈদ ভালো কাটুক, সুন্দর কাটুক। ঈদ মোবারক।
-কামরুল হাসান রনি, শিক্ষার্থী, সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ
 

/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়