ঢাকা     সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩১

শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও কিছু কথা

খাদিজা তুল কোবরা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২২, ১৪ মে ২০২৪  
শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও কিছু কথা

শিক্ষায় জাতির মেরুদণ্ড। এজন্যই কি আজ আমাদের শিক্ষার এ দুরবস্থা? বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,  টেলিভিশন সবকিছুতেই শিক্ষা সংক্রান্ত একটাই রেড টপিক্স- দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকরা আজ লাঞ্চিত, অবহেলিত। এর কারণগুলো কি কেউ কখনো খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন বা ভেবেছেন?

ব্যক্তিগতভাবে কিছু শিক্ষার্থী পড়ানোর খুব সামান্য অভিজ্ঞতা হয়েছে। এর মধ্যে ভালো অভিজ্ঞতা যেমন হয়েছে, তেমনি কিছু খারাপ অভিজ্ঞতাও আছে। সে জায়গা থেকেই আমার আত্মোপলব্ধি হলো- এতো এতো শিক্ষক লাঞ্চিত হওয়ার মূল বা প্রধান কারণ সামাজিক মূল্যবোধের অভাব।

একটি ছোট্ট শিশুর সামাজিকীকরণ শুরু হয় তার পরিবারের মানুষগুলোর হাত ধরে, তাদেরকে দেখে, তাদের থেকে শিখে। আমার কাছে শিক্ষক হলো সম্মানের পাত্র। যিনি একজন শিক্ষার্থীকে দিকনির্দেশনা দেন, সত্যিকারের মানুষ হতে শেখান। কিন্ত দিন দিন আমাদের মূল্যবোধ এবং নীতিনৈতিকতা এতটাই নিম্নস্তরের হয়ে গেছে যে, আমরা ভুলতে বসেছি শিক্ষক সম্মানীয় ব্যক্তি এবং শিক্ষকের সম্মান বজায় রাখা শিক্ষার্থী, অভিভাবক বা দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব।

মনে করেন, আপনি আপনার ছোট্ট সোনামণির জন্য বাসায় একজন গৃহশিক্ষক রেখেছেন। এক্ষেত্রে আপনার ছোট্ট সোনামণির জন্য গৃহশিক্ষকের করণীয় কি কি হতে পারে? গৃহশিক্ষক আপনার সন্তানের পাঠ্যক্রমকে আনন্দদায়ক করে তুলতে পারেন, সেটার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে পারেন। আবার একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিতে পারেন, পড়ার কিছু কৌশল বলে দিতে পারেন।

কিন্তু দেখা গেল, সবকিছু সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন হওয়ার পরেও বাচ্চাটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারলো না। তখনই শুরু হয়ে যায় অভিভাবক হিসেবে আপনার ভূমিকা! শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেনি, এর সব দোষ ওই গৃহশিক্ষকের! 

অমনোযোগিতার কারণে শিক্ষার্থী ধর্ম পরীক্ষার পরিবর্তে বিজ্ঞান পরিক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে অথবা কোনোভাবে সে ধর্ম পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। এখানে দোষ কার? ওই গৃহশিক্ষকের। 
শিক্ষকের দায়িত্ব ছিল প্রতিটি বিষয় ভালোমত বুঝিয়ে পড়ানোর! তবুও দেখা গেল শিক্ষার্থী চারটি বিষয় এ অকৃতকার্জ হয়েছে। এখানেও দোষ কিন্তু ওই গৃহশিক্ষকেরই!

গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়ানোর সুবাদে এমন কিছু অভিজ্ঞতা আমারও হয়েছে! ছোটবেলা থেকে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা প্রায় শেষের পথে। কখনো আব্বু-আম্মুকে বলতে হয়নি, যাও পড়তে বসো।

কিন্তু কিছু অভিভাবকের আচরণ ও কথায় এতো কষ্ট পেয়েছি এবং অপমানিত বোধ করেছি, সেটা মনের মধ্যে কষ্ট হয়েই থাক! তবুও আপনাদের জন্য কিছু কথা-

আপনাদের সন্তানদের এ ছোট্ট বয়স থেকেই ক্ষুধা তৈরি করুন। সেটা হতে পারে নতুন কিছু জানার ক্ষুধা, দায়িত্ব পালনের ক্ষুধা, সম্মানিত হওয়ার এবং সম্মানিতবোধ করার ক্ষুধা, সফল হওয়ার ক্ষুধা, প্রতিযোগিতার ক্ষুধা, ব্যর্থ হওয়ার পরেও ঘুরে দড়ানোর ক্ষুধা এবং সর্বশেষ একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ হওয়ার ক্ষুধা। কারণ ক্ষুধা ছাড়া কখনোই আমরা দৌঁড়ে বেশিদূর যেতে পারবো না। এ চিরন্তন সত্য স্বীকার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

তাহলে দেখবেন দিনশেষে কাউকে দোষারোপ করতে হবে না। নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী থাকি, অন্য কেউ থাকে না। যা হারায় তা আমরা নিজেরাই হারায়, অন্য কেউ তা করে না। শিশুদের চেয়ে চমৎকার এ পৃথিবীতে আর কিছু নেই। নতুনভাবে মনোযোগ দিন আমাদের চমৎকার এই শিশুদের প্রতি। দেখবেন, ওরাও আপনাকে দিনশেষে চমৎকৃত করবে ভালো কিছু উপহার দিয়ে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

/মেহেদী/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়