ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাবি ও রাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ঢাবি ও রাবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৫, ৮ মার্চ ২০২৫  
ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাবি ও রাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ধর্ষণের প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের প্রকাশ্য শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর তারা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

আরো পড়ুন:

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির জন্য নিন্দা ও ধর্ষকদের প্রকাশ্য শাস্তির দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন ঢাবির রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা। রোকেয়া হলের সামনে থেকে মিছিলটি নিয়ে ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে আবার সেখানে এসে সমাবেশে মিলিত হন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ধর্ষকদের শাস্তি, দিতে হবে দিতে হবে’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে থাকেন। 

বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রীরা বলেন, দেশে শিশু থেকে বৃদ্ধা কেউই ধর্ষকদের হাত থেকে রেহায় পায় না। ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করার পর তাদের কী বিচার হয়, তাদের কী ধরনের বিচার হয়- আমরা জানতে পারি না। তাদের ফাঁসি হয় কিনা তাও জানতে পারি না। আবার দেখা যায় ধর্ষকরা জামিন পেয়ে বাইরে অবাধে চলাফেরা করে। ধর্ষকদের শাস্তি সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকলেও তা আমরা বাস্তবায়ন দেখতে পায় না।

তারা দাবি করে বলেন, মাগুরায় শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের ঘটনায় যে তিনজন পুরুষ ও একজন মহিলা জড়িত, তাদের প্রকাশ্যে ফাঁসি চায়। আমরা অ্যারেস্ট অ্যারেস্ট নাটক আর দেখতে চায় না। আমরা দোষীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি চায়। প্রকাশ্যে ফাঁসি না দিলে আমরা শান্ত হব না।

রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী আবিদা সুলতানা পুষ্প বলেন, “ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আজ মশাল মিছিল বের করেছি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণগুলোর সঙ্গে জড়িতদের প্রকাশ্য ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি আমরা।”

অন্যদিকে, দেশব্যাপী চলমান ধর্ষণ প্রতিরোধ ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করে নারীসহ জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাবির নারী শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে তারা মিছিল নিয়ে ছাত্রী হলগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে এসে সমাবেশ করেন তারা।

এ সময় তারা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘আমার সোনার বাংলায়, দর্শকের ঠাঁই নাই’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘তুমি কে আমি কে, আসিয়া আসিয়া’, ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, ইনটিরিম জবাব চাই’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘একটা একটা ধর্ষক ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিরা নিশা বলেন, “আমরা পুরো বাংলাদেশের নারীরা আজ নিরাপদ না। আমরা যখন টিউশনি করায়ে আসি, তখন নিরাপত্তা পাই না। রিকশাওয়ালা আমাদের টিজ করে। আমরা চাই না আর এ রকম কিছু হোক। এ সোনার বাংলায় আর কোন ধর্ষকের ঠাঁই হবে না। দেশে যারা ধর্ষক, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তি প্রদান করতে হবে।”

ধর্ষকের শাস্তি চেয়ে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, “একটা ধর্ষক শুধু দৈহিকভাবে একটা মেয়ের ক্ষতি করে না। মেয়েটি তিলে তিলে শেষ হয়ে যায়। আজ আছিয়ার বিষয়ে সবাই জানতে পেরেছে। কিন্তু এমন অনেক ধর্ষিতা বোন আছে, যারা সম্মানের কথা বা পরিবারের কথা ভেবে কাউকে বিচার চাইতে পারে না।”

তিনি বলেন, “একজন ধর্ষিতা নারীর প্রতিটা দিন কত দূর্বিষহ যায়, সেটা শুধু সেই জানে। তাই আইন উপদেষ্টাকে বলব, দ্রুত ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করুন নয়তো পদত্যাগ করে শাস্তির দেওয়ার দায়িত্ব জনগণের হাতে দিয়ে দেন। জনগণ প্রকাশ্যে তাদের শাস্তি দেবে।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে এ মুহূর্তে সবথেকে বেশি জরুরি আমাদের বোনদের নিরাপত্তা। বিভিন্ন নেতারা বলছেন, তারা নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। আপনারা আগে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।”

তিনি বলেন, “রাজপথে যখন একজন নারী দাঁড়িয়ে যায়, তখন সে ১০০ পুরুষের সমান ভূমিকা পালন করে। স্বৈরাচারও একটা নারীর গায়ে হাত দেওয়ার আগে ১০ বার চিন্তা করে। যেকোন দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের বোনেরা সবসময় এ কথা মনে রাখে।”

ঢাকা/সৌরভ/ফাহিম/মেহেদী

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়