ইবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তথ্য চেয়ে বিজ্ঞপ্তি
ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে বিজ্ঞপ্তি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে উন্মুক্ত গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি ও হল কমিটি।
রবিবার (১৯ জুলাই) ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি ইবি শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুর থেকে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এবং হল কর্তৃপক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আকস্মিক মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে উভয় কমিটি।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুলাই আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র সাজিদ আব্দুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আপনাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, রবিবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার মধ্যে লিখিতভাবে কমিটির আহ্বায়ক বরাবর অথবা হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে (০১৭১৫২১০০১২ ও ০১৭১৬০৫৩৫৯৬) তথ্য পৌঁছানোর জন্য আহ্বান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একইদিনে শহিদ জিয়াউর রহমান হল প্রাধ্যক্ষ ড. আব্দুল গফুর গাজীকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে হল প্রশাসন। উভয় কমিটিই ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। মৃত্যুর কারণ ও পেছনের সম্ভাব্য রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, “আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করতে আমরা সক্ষম হব। এ রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে না ঘটে, এটাই হবে আমাদের মূল টার্গেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার নিরাপত্তার জন্যই এ ঘটনার পেছনের সত্যটা বের করা উচিত বলে আমরা মনে করি।”
তিনি বলেন, “আইসিটি সেলের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তথ্য লিখিতভাবে অথবা হোয়াটস অ্যাপ এর মাধ্যমে দেওয়া যাবে। প্রদান করা তথ্য শতভাগ গোপন রাখা হবে।”
তিনি আরো বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুরতহাল রিপোর্ট রেজিস্ট্রারের (ভারপ্রাপ্ত) কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে। সাজিদের ব্যবহৃত মোবাইলের এক সপ্তাহের কল রেকর্ডও রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজিদের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটির দুজন সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হলের যে রুমে সাজিদ আব্দুল্লাহ থাকতো সে হল পরিদর্শন ও তার রুমমেট, বন্ধু সার্কেল এবং শিক্ষকদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলা হবে। এ ঘটনার ব্যাপারে সাংবাদিকদের নিকট যদি কোনো তথ্য থাকে, তা প্রদানের জন্য কমিটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলো।”
অন্যদিকে, হল কর্তৃপক্ষের গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. গফুর গাজী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, বিগত ১৭ জুলাই শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১০৯ নম্বর কক্ষে অবস্থানকারী ২০২০-২১ বর্ষের সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্য হল প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উক্ত তদন্ত কাজ সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আগামী ২০ জুলাই থেকে ২২ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত আহ্বায়ক বরাবর লিখিত অথবা নিম্নোক্ত ওয়াটসঅ্যাপে তথ্য প্রদানের জন্য আহ্বান করা (ওয়াটসঅ্যাপ নম্বার ০১৭১৩-৯২৪৬৭০, ০১৭১২-৬৫৩০৭৮ এবং ০১৭১৬-০৭৭৪৭৬) হলো।
মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাসসহ ১৫ দফা দাবিতে শনিবার (১৯ জুলাই) টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন ইবি শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট ও ছয়দিনের মধ্যে তাদের দাবিগুলো পালনের জন্য আবেদন করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় আনা, হলে শিক্ষার্থীদের এন্ট্রি ও এক্সিট মনিটরিংয়ের আওতায় আনা, ক্যাম্পাসের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টিত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও চালু রাখা এবং বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ অন্যতম।
ঢাকা/তানিম/মেহেদী
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশকে তেল পরিবহণের সুযোগ করে দিয়েছে ইরান