ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

এ্যাবের নির্বাচনি কমিটিতে বাকৃবি উপাচার্যসহ ৩ শিক্ষক, শুরু বিতর্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬  
এ্যাবের নির্বাচনি কমিটিতে বাকৃবি উপাচার্যসহ ৩ শিক্ষক, শুরু বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬–এর কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পেশাজীবী সংগঠন এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)–এর কেন্দ্রীয় কমিটির একটি তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশিত ওই তালিকায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের নাম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকায় শিক্ষকসমাজ ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কমিটিতে সদস্য হিসেবে আরো রয়েছেন বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আহমদ খায়রুল হাসান এবং কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সরকার।

আরো পড়ুন:

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছেন, নির্বাচন বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কমিটিতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধির আলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। বিশেষ করে উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তির নাম এমন একটি সংগঠনের কমিটিতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষতা ও ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মত দিচ্ছেন সমালোচকেরা।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯–এর ২৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না কিংবা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা সহায়তা করতে পারবেন না।

তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপাচার্যরা সরাসরি সরকারি কর্মচারীর সংজ্ঞার আওতায় পড়েন কি না, এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন (সংশোধনী) অনুযায়ী দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের সুবিধা পেয়েছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ক্ষেত্রে কিছুটা সুযোগ থাকলেও, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য এ ধরনের সুযোগ নেই।

এ্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের নাম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আহমদ খায়রুল হাসান বলেন, “এ্যাব কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী সংগঠন।”

একই বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য এ্যাব এই কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে। এটি তাদের মূল কমিটি নয়। এ্যাব একটি পেশাজীবী সংগঠন, যেখানে ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও যুক্ত আছেন। এটি যদি রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠন হতো, তাহলে তাঁদের এখানে থাকার সুযোগ থাকত না।”

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ্যাবের কমিটিতে নিজের নাম থাকার প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “আমি আগে এ্যাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বর্তমানে তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত নই। কর্তৃপক্ষ আমার নাম তালিকায় দিয়েছে, তবে এ বিষয়ে আমার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমানে আমি একটি সরকারি দায়িত্বে আছি। এই অবস্থান থেকে এ্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয় এবং আমি থাকবও না। বিষয়টি আমি তাদের জানিয়ে দেব।”

এদিকে এ্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান কায়সার বলেন, “এ্যাব একটি পেশাজীবী রাজনৈতিক সংগঠন। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও সম্প্রসারণ কর্মকর্তাসহ জাতীয়তাবাদী চেতনার কৃষিবিদরা যুক্ত আছেন। নির্বাচন মনিটরিং কার্যক্রমে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেই আমরা কাজ করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরাসরি সরকারি চাকরিজীবী নন। সে কারণে তারা এই কমিটিতে থাকতে পারেন। সদস্যদের পূর্ববর্তী পদ ও কার্যক্রম বিবেচনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বলে জানান তিনি

নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রমে উপাচার্য ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনী কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য উপাচার্য ও অন্যান্য শিক্ষকদের উপদেষ্টা পর্যায়ে রাখা হয়েছে।

ঢাকা/লিখন/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়