ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

এনবিআরে গিয়ে আয়ের খোঁজ নেন, কখনো চুরি-ডাকাতি করিনি: আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৩৫, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২৩:১২, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
এনবিআরে গিয়ে আয়ের খোঁজ নেন, কখনো চুরি-ডাকাতি করিনি: আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস নিজের আয়ের বিষয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “এনবিআরে গিয়ে আমার আয়ের হিসাব খোঁজ নেন। কখনো চুরি করিনি, ডাকাতিও করিনি।”

তিনি বলেন, “এত ত্যাগ ও নির্যাতনের পর যখন দেশে নির্বাচন এসেছে, তখন আবার আমাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ এবং বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক দল আয়োজিত নির্বাচনি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, “বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে নিজের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেছে। আমাদের জোট ও সহযোগী দল থাকলেও বিএনপির শক্তিকে ভয় পেয়ে কিছু দল আজ আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাদের দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা চলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা কখনোই শান্তিতে থাকতে পারেননি। এ সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন।” 

“এত ত্যাগ ও নির্যাতনের পর যখন দেশে নির্বাচন এসেছে, তখন আবার আমাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”

দলের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দল শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে।”

বর্তমানে তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেক সময় আমরা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়লেও বিএনপিতে কখনো নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়নি। কখনো খালেদা জিয়া, কখনো তারেক রহমান সেই শূন্যতা বুঝতে দেননি।”

তারেক রহমান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গণসংযোগকালে তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু চাকরির পেছনে ছুটলে দেশের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”

চাকরির বাইরেও নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান ও কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভালো আয় করা সম্ভব।”

“নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোলো, যাতে ভবিষ্যতে তুমি ১০০ জনকে চাকরি দিতে পারো,” তরুণদের উদ্দেশে বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, “একজন ডাক্তার বা প্রকৌশলী ব্যাংকের চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ নিজ পেশাগত জ্ঞান জাতির সেবায় কাজে লাগানো উচিত।”

এর আগে রাজধানীতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নে আয়োজিত প্রচার ও পথসভায় মির্জা আব্বাস বলেন, “আজ একটি দল ভাবছে দেশটা তাদের হয়ে গেছে।কেউ কেউ বলে বিএনপিকে একটি সিটও দেওয়া হবে না। আমি প্রশ্ন করতে চাই—তোমরা সিট দেওয়ার কে? দেশ কি তোমরা ইজারা নিয়েছো? সিট দেওয়ার মালিক আল্লাহ।”

তিনি বলেন, “বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভোট কারচুপি ছাড়া একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। যার ভোট, সে যাকে খুশি তাকে দেবে—এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী।”

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে একটি চক্র ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিকল্পনা করছে। “ভোট আদায়ের জন্য যেমন যুদ্ধ হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্যও তেমন আরেকটি যুদ্ধ করতে হবে,” বলে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা/আলী/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়