বেআইনি আদেশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হলেও মানা যাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বেআইনি আদেশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হলেও মানা যাবে না। উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, জনগণের আস্থা অর্জনই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রধান শর্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনি নিরাপত্তা, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অগ্রগতি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’’
২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো জানান, নির্বাচন উপলক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনি সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ জানাতে একাধিক টেলিফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করা হয়েছে।’’
সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এসব নম্বর ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘‘মানবিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা তো দূরের কথা, দায়িত্ব পালনকালে কোনো খাবারও গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে রিটার্নিং ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬৪ হাজার ৬২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু এই অভিযানে গ্রেপ্তার ২২ হাজার ৪৬৪ জন। অভিযানে ৪৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪ হাজার ৬৬০ রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি পরিচালিত সাম্প্রতিক অভিযানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চোরাচালান চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দের তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয় উল্লেখ করে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা/এএএম//