‘অপরাধীদের পক্ষে তদবিরকারীকেও আইনের আওতায় আনুন’
সিলেট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সিলেটে ছিনতাই প্রতিরোধ ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কেউ তদবির করলে তাকেও আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
রবিবার (তারিখ) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে এ সব নির্দেশনা দেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী।
সভায় মন্ত্রী বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের সাদা পোশাকে টহল বাড়াতে হবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে হবে। প্রতিটি মার্কেটের সামনে এবং ভেতরে সিসি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর অনেক নারী ক্রেতা মার্কেটে আসেন। তাই মার্কেটের ভেতরেও বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
ছিনতাইয়ের কৌশল প্রসঙ্গে আরিফুল হক বলেন, মার্কেট এলাকার ভেতরে মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ অনেক সময় ছিনতাইকারীরা ৫-৭টি মোটরসাইকেলে এসে ছিনতাই করে দ্রুত পালিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এসব মোটরসাইকেলে নম্বর প্লেটও থাকে না। তাই অন্তত রমজান মাসে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “কিশোর গ্যাং বলে একটি গ্রুপ আছে, তারা খুবই ডেসপারেট। তাদের পেছনে অন্য কোনো শক্তি থাকতে পারে। এরা নিশ্চয়ই কারও না কারও মদদে এমন সাহস দেখাচ্ছে। সেই জায়গায় ভালো করে নজরদারি করতে হবে।”
পুলিশের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, “আপনারা ডান-বাম তাকাবেন না। আমরা সবাই আপনাদের সমর্থন দিচ্ছি। তবে অন্যায়ভাবে কারও প্ররোচনায় কাউকে ধরবেন না। আর যদি প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়ে, তার জন্য কেউ সুপারিশ বা অনুরোধ করলেও তাকেও আইনের আওতায় আনবেন। তখনই বোঝা যাবে, সেই এই অপরাধের পেছনে আছে। কোনো তদবির চলবে না।”
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে সভায় সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/মোসাইদ/বকুল