ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৭ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৪ ১৪৩২ || ২৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হাসপাতালে হামলার ক্ষোভে ফুঁসছেন রশিদ-নবিরা, মানবতার পক্ষে বিশ্বকে ডাক

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০৪, ১৭ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ২১:২৫, ১৭ মার্চ ২০২৬
হাসপাতালে হামলার ক্ষোভে ফুঁসছেন রশিদ-নবিরা, মানবতার পক্ষে বিশ্বকে ডাক

রমজানের পবিত্র আবহে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নেমে এসেছে এক বিভীষিকাময় রাত। সোমবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ হামলায় শহরের একটি বৃহৎ হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমন অভিযোগ উঠতেই শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আফগান ক্রিকেটের তারকারা। অভিযোগ অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৪০০ মানুষের প্রাণ ঝরে গেছে, আহত হয়েছেন আরও প্রায় আড়াইশ জন।

ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, আজমতুল্লাহ ওমরজাই এবং নবীন উল হকের মতো ক্রিকেটাররা। তাদের কথায় ফুটে উঠেছে গভীর শোক, ক্ষোভ এবং মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতার তীব্র আহ্বান।

আরো পড়ুন:

রশিদ খান এই হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে নির্মম আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের বসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা হাসপাতালের উপর যেকোনো আক্রমণ- ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত; একটি জঘন্য অপরাধ। পবিত্র রমজানে এমন রক্তপাত আরও ভয়াবহ, যা ঘৃণা ও সহিংসতার আগুনকে উসকে দেবে বলেও আশঙ্কা তার। আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি আবেদন জানিয়েছেন।

অন্যদিকে মোহাম্মদ নবি যে দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন, তা যেন হৃদয় বিদারক এক চলচ্চিত্র। তার ভাষ্যে, চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে যাওয়া তরুণেরা পরিণত হয়েছেন সহিংসতার বলিতে। সন্তানদের নাম ধরে মায়েদের আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। রমজানের শেষ প্রহরে এভাবে প্রাণ ঝরে যাওয়া- এ যেন আশার মৃত্যুঘণ্টা।

নবীন উল হক আরও তীব্র ভাষায় এই হামলার তুলনা টেনেছেন ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের সঙ্গে। তার প্রশ্ন, দুই দেশের সামরিক আচরণের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? এই মন্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি কতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দুই দেশের মধ্যে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিয়মিত সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার সীমান্তে গুলির লড়াইয়ে আফগান বাহিনীর চার সদস্য নিহত হন। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাবুলের এই হাসপাতাল হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই হাজার শয্যার এই হাসপাতালটি মূলত মাদকাসক্তদের চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত। রাত প্রায় নয়টার দিকে আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। বিস্ফোরণে ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে, চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা টর্চের আলোয় ধ্বংসস্তূপ থেকে আহতদের টেনে বের করছেন; এমন দৃশ্য ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই ঘটনার পর শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন নয়, ক্রীড়াজগতেও তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ভবিষ্যতে মাঠে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান মুখোমুখি হলে সেই ম্যাচ যে আবেগ ও উত্তেজনার অন্য মাত্রা ছুঁয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।

ঢাকা/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়