বিশ্বকাপ দলে থাকা নিজের হাতে নেই, স্বীকার করলেন হতাশ নেইমার
আসন্ন বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমারের জন্য পথটা ক্রমশ সরু হয়ে আসছে। রবিবার ব্রাজিলিয়ান লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী করিন্থিয়ানসের বিপক্ষে সান্তোসের ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে নেইমারের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স তার বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় এক প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
সোমবার দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করবেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার আগে এটিই ছিল নেইমারের শেষ ম্যাচ। মাঠ ছাড়ার সময় নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই তারকা। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘আমি জাতীয় দলে ফিরতে চাই এবং বিশ্বকাপে খেলতে চাই, কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত আমার হাতে নেই। আমি দলে থাকি বা না থাকি, ব্রাজিলের জন্য আমার সমর্থন সবসময় থাকবে।’’
ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৭৯ গোল করা এই তারকার জন্য সময়টা এখন সত্যিই কঠিন। জুনের ১১ তারিখ থেকে জুলাইয়ের ১৯ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসবে বিশ্বকাপের আসর। মে মাসে চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দুটিই হবে আনচেলত্তির পরখ করে দেখার শেষ সুযোগ।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার গত অক্টোবরে এসিএল ইনজুরিতে পড়েন এবং ডিসেম্বরে আবারও হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এই বছর সান্তোসের হয়ে ১০টিরও কম ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যদিও ফেব্রুয়ারিতে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জোড়া গোল করে সান্তোসের ইতিহাসের সেরা ১০ গোলদাতার তালিকায় ঢুকে পড়ে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট।
করিন্থিয়ানসের বিপক্ষে ম্যাচে ১৯ মিনিটে মেম্ফিস ডিপাইয়ের গোলে পিছিয়ে পড়া সান্তোসকে ২৪ মিনিটে সমতায় ফেরান গ্যাব্রিয়েল বারবোসা। তবে পুরো ম্যাচে নেইমারকে চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে একটি হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া ছাড়া গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেননি তিনি। গ্যালারিতে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও নেইমারের এমন পারফরম্যান্স তাদের খুব একটা স্বস্তি দেয়নি।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন, কেবল ১০০ শতাংশ ফিট খেলোয়াড়দেরই তিনি বিশ্বকাপে নিয়ে যাবেন। তবে তিনি এও আভাস দিয়েছেন যে, কিছু খেলোয়াড়কে নতুন করে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। নেইমারের ভক্তরা আশা করছেন, প্রীতি ম্যাচে ডাক না পেলেও অভিজ্ঞতার বিচারে হয়তো শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দলে জায়গা হবে তার।
তবে আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে গত মঙ্গলবার মিরাসোলের বিপক্ষে নেইমারের অনুপস্থিতি নিয়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আনচেলত্তি জানতে পারেন যে নেইমার খেলছেন না। কোচের সঙ্গে এই যোগাযোগের ঘাটতি নেইমারকে টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ঢাকা/আমিনুল