ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৭ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৪ ১৪৩৩ || ২০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আসন ২০০, সংকটে গোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

গোবিপ্রবি সংবাদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৭, ৭ মে ২০২৬   আপডেট: ২০:১৮, ৭ মে ২০২৬
১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আসন ২০০, সংকটে গোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

নতুন বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বাড়েনি আসন সংখ্যা। আসন সংকট, দুর্বল ইন্টারনেট সেবা এবং প্রয়োজনীয় বইয়ের অভাব নিয়েই চলছে লাইব্রেরির কার্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে লাইব্রেরিতে আসন রয়েছে মাত্র ২০০টি। সে হিসাবে শিক্ষার্থী ও আসনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:৫০। পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়তে এসেও জায়গা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এছাড়া, ধীরগতির ইন্টারনেট, প্রয়োজনীয় বইয়ের সংকট এবং আশপাশের শব্দদূষণের কারণে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ফলে দিন দিন অনেক শিক্ষার্থী লাইব্রেরিমুখী না হয়ে পড়ছেন।

আরো পড়ুন:

লাইব্রেরিতে বর্তমানে প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি বই থাকলেও নিয়মিত কোর্সভিত্তিক সব বই পাওয়া যায় না। বিশেষায়িত বইয়েরও রয়েছে তীব্র সংকট। নেই আন্তর্জাতিক জার্নাল, ই-বুক অ্যাপস কিংবা পর্যাপ্ত ডিসপ্লে সিস্টেম। শিক্ষকদের জন্য এখনো চালু হয়নি অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম সফটওয়্যার। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য কম্পিউটার, প্রিন্টার বা ফটোকপি মেশিনও নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে পড়াশোনা করছেন। দুই চেয়ারের মাঝখানে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় একজন উঠলে পুরো কক্ষে শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় বই, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীরা দ্রুত আসন সংকট সমাধান, উন্নত ইন্টারনেট সুবিধা, চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ, জব কর্নার স্থাপন এবং লাইব্রেরির আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রনি সরকার বলেন, “গবেষণা ও পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করতে লাইব্রেরির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিক্ষার্থী বাড়লেও আসন বাড়েনি। অনেক সময় পড়তে এসে জায়গা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। এছাড়া, পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধাও নেই। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।”

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলি বলেন, “লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই নেই। নিয়মিত পাঠ্যবইয়ের বাইরের বইয়ের সংগ্রহও কম। পাশাপাশি নিরিবিলি পরিবেশের অভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হয়। লাইব্রেরির আধুনিকায়ন ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান নাসিরুল ইসলাম বলেন, “জায়গা ও জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। চারতলা ভবনের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে দুইতলায় কার্যক্রম চলছে। অটোমেশন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কাজ ম্যানুয়ালি করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় উন্নয়নও সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকলেও সপ্তাহে ১৩টি শিফট পরিচালনায় কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। তারপরও শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, “এসব বিষয় বাজেটের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে সবখানেই বাজেট কমানো হচ্ছে। তারপরও বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বই কেনার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। আসবাবপত্রের বিষয়গুলোও ধীরে ধীরে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে সবকিছুই বাজেটের ওপর নির্ভরশীল।”

২০১৪ সালে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ১ হাজার ৪০০ বই নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে সেখানে একাডেমিক, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, গল্প-উপন্যাসসহ মোট ৩৬ হাজার ১৫২টি বই রয়েছে। এছাড়া লাইব্রেরিতে রয়েছে ১ হাজার ৫০০টি প্রিন্ট জার্নাল এবং ৫০০টি ম্যাগাজিন।

ঢাকা/মুছাদ্দিক/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়