জমির বিরোধে ছুরিকাঘাতে চাচাকে হত্যা, ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড
চাঁদপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কুমিল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে চাচা মো. ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিককে (৩৭) হত্যার দায়ে ভাতিজা মো. সারোয়ার আলমকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সেই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আসামিকে অপর ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৪ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এক আসামি।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মো. সারোয়ার আলম কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের সফর আলী বাড়ির মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে। অব্যাহতি পাওয়া নুরে আলম মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি সারোয়ারের ভাই। হত্যার শিকার মো. ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিক একই বাড়ির হাজী আমির হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রাঢ়া রাজাপুরা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কালো ড্রাম লোকজন দেখতে পায়। পুলিশকে জানালে পুলিশ লোকজনের উপস্থিতিতে ওই ড্রাম খুলে ভিতরে ছিদ্দিকের মৃতদেহ দেখেন। মরদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ। এই ঘটনায় শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই ঘটনার পূর্বে ছিদ্দিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা দক্ষিণ থানায় জিডি হয়। ওই জিডির সূত্র ধরে তাকে পরিবারের লোকজন মরদেহ শনাক্ত করে।
মামলার পরে ঘটনাটি তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরের পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান। তিনি ঘটনাটি তদন্তকালে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার মিয়ার বাজার এলাকা থেকে আসামি সারোয়ার আলমকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে। ঘটনাটি তদন্ত শেষে তিনি ২০২১ সালের ২ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাড়ির চলাচলের রাস্তা না দেওয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামি সারোয়ার। সেই পরিকল্পনা ও ক্রাইম পেট্রোল দেখে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর নামক স্থানের হাজারী পাম্পের দক্ষিণ পাশে ইতালি প্রবাসী মো. মাহবুবুর রহমান শামীমের বাড়ির চতুর্থ তলায় ফোন করে ডেকে নিয়ে তাকে প্রথমে আটকে রাখে এবং পরে রাতে মারধর ও শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে। সেখান থেকে পরদিন ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে এবং ড্রামে মরদেহ ঢুকিয়ে চাঁদপুরের রাঢ়া রাজাপুরা নামক স্থানে ফেলে অটোরিকশায় কুমিল্লায় চলে যায়।
মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শাওন।
পিপি কুহিনুর বেগম বলেন, ‘‘মামলাটি পাঁচ বছরের অধিক সময় চলাকালে আদালত ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামি তার অপরাধ স্বীকার করায় তার উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। এই মামলায় অপর আসামি সারোয়ারের ভাই নুরে আলমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।’’
ঢাকা/অমরেশ/রাজীব