রাবিতে ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগের পোস্টারিং, শিবির-ছাত্রদলের হুঁশিয়ারি
রাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
রাতের অন্ধকারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (৮ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস, বিজ্ঞান চত্বর ও ফার্স্ট সায়েন্স বিল্ডিংয়ের দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারগুলোতে ‘আওয়ামী লীগের ওপর অগণতান্ত্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কর’, ‘শিক্ষা নিয়ে টালবাহানা চলবে না’, ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা’ এবং ‘কারাগারের দেয়াল ভাঙবে, তবুও মানুষের কণ্ঠ নয়’—এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
এদিকে পোস্টারিংয়ের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিব লেখেন, “ধন্যবাদ জিয়া হল ছাত্রলীগ। জিয়া হল দিয়ে শেষ, আবার জিয়া হল দিয়েই শুরু হলো। মতিহার সবুজ চত্বরে আবারো ছাত্রলীগ স্বমহিমায় ফিরবে।”
ঘটনাটি ‘রাবি সংসদ’ ও ‘পরিবার’ নামের দুটি ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মেহেদী সজীব ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ রাবির বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করেছে। একই দিনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনেও কয়েকজন লীগ কর্মী স্লোগান দিয়েছে। কয়েকদিন আগে ডাকসুর সামনেও মুখ ঢেকে পোস্টারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। আমরা এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরো লেখেন, “এখানে সফল হলে তারা অন্যদিকে অগ্রসর হবে। দেশি ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জুলাইয়ের তাজা রক্ত এখনো আমাদের শরীরে বহমান। এই রক্ত যতদিন থাকবে, শহীদদের অনুপ্রেরণা যতদিন থাকবে, ততদিন সন্ত্রাসী লীগকে একবিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না।”
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “ক্যাম্পাস বর্তমানে বন্ধ। গভীর রাতে দু-একজন চোরের মতো এসে এসব কর্মকাণ্ড চালালে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। তবে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবসময় ক্যাম্পাসে কীভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়, সেই পরিকল্পনাই করে। আমরা রাজনৈতিকভাবেই এসবের মোকাবিলা করব।”
তিনি আরো বলেন, “এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়।”
ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সব ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বানও জানান তিনি।
রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নামে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানো শুধু প্রশাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা। শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।”
তিনি জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “আমরা এ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “রাতের অন্ধকারে কে কোথায় এসে কী করে গেল, তা নিয়ে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নই। আমরা মনে করি না, তারা এ ধরনের চোরাগোপ্তা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “পুলিশ বিষয়টি দেখছে। ক্যাম্পাসে যাতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকে, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
ঢাকা/ফাহিম/জান্নাত
২২ লাখ ক্ষুদে শিক্ষার্থীর ফুটবল টুর্নামেন্ট, ফাইনালে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন