ঢাকা     বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯ ||  ১১ মহরম ১৪৪৪

ব্যয় ও সময় বাড়ানোর পরেও থমকে আছে পর্যটন প্রকল্প

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০৩, ২ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:০৬, ২ ডিসেম্বর ২০২১
ব্যয় ও সময় বাড়ানোর পরেও থমকে আছে পর্যটন প্রকল্প

প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়ানোর পরেও ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকটা থমকে আছে পায়রা বন্দরনগরী ও কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলের পর্যটনভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন শীর্ষক প্রকল্পের অগ্রগতি ।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘পায়রা বন্দরনগরী ও কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলের পর্যটনভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সভায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের গাফিলতি ও অসহযোগিতার কারণে প্রকল্পটির কাজ গতি পাচ্ছে না। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ানো হচ্ছে। প্রথম দফায় প্রকল্পের মেয়াদ আড়াই বছর বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে চার বছর হয়েছে। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়লেও আপাতত ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এ সম্পর্কিত এক কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৬ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা ধরা হয়েছিল ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ দুই বছর।  পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় ৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০১৯ সালের জুন থেকে বাড়িয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এখন বলা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রীতার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলেন, কোভিড পরিস্থিতির কারণে মাঠপর্যায়ে জরিপ, তথ্য সংগ্রহ, পিআরএ যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি যথাসময়ে হোপ কর্তৃক প্রকল্পের প্রস্তাব মূল্যায়ণ কমিটির সুপারিশ অনুমোদন না হওয়া, সি নিয়োগ সংক্রান্ত অনুমোদিত কার্যবিধিতে সি এক্সপার্ট অন্তর্ভূক্ত না থাকা এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ব্যক্তি পরামর্শক নিয়েগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। আর এসব কারণে চার বছরেও প্রকল্পের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষার জন্য পরামর্শক নিয়োগ, কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্ট ও হাইড্রোলজিস্ট বিষয় সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের এবং কয়েকটি প্যাকেজে ব্যক্তি পরামর্শক নিয়োগ সম্পন্ন করা যায়নি।

সভায় অভিযোগ করা হয়, প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট পরিচালকের কারিগরি জ্ঞান না থাকা এবং প্রকল্প পরিচালকের দাপ্তরিক অসহযোগিতা ও সময়মতো নথি দেওয়া হয়নি।

নতুন প্রস্তাবিত বর্ধিত মেয়াদে প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে প্রকল্প পরিচালক বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বর্তমান অবস্থা বিদ্যমান থাকলে প্রকল্পের অবশিষ্ট কার্যক্রম বর্ধিত মেয়াদে শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দ্বিতীয় দফা সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে- নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর।

সূত্র জানায়, সভায় প্রকল্প পরিচালককে বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে ১৫ দিনের মধ্যে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঢাকা/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়