ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমানো হচ্ছে 

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৭, ১৭ এপ্রিল ২০২৩   আপডেট: ১১:৪০, ১৭ এপ্রিল ২০২৩
সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমানো হচ্ছে 

ব্যয় সংকুলানে আগামী ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এই খাত থেকে ঋণে নেওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ১৮ হাজার কোটি টাকার করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। টাকার অঙ্কে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি চেয়ে লোকজন ভাঙিয়েছেন বেশি।

সূত্র জানায়, বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার। এর বিপরীতে প্রথম সাত মাসে এই খাত থেকে কোনো ঋণ পায়নি সরকার, উল্টো ৩ হাজার ৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কোষাগার থেকে অথবা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করেছে।

সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ অনেক ব্যয়বহুল। এখানে সর্বোচ্চ সুদ ১২ শতাংশের ওপরে। তাই আমরা চাচ্ছি সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ ধারাবাহিকভাবে কমিয়ে আনতে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্র কেনার ওপর নানা শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যেমন এখন পাঁচ লাখ টাকা ওপরে এ খাতে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইলে তাকে অবশ্যই ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এ জন্য অনেকে আর নতুন করে এ খাতে বিনিয়োগ করছেন না। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্র ভাঙিয়ে ফেলছেন। এ অর্থ তারা সংসারের কাজে ব্যয় করছেন। ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি অনেকটা কমে গেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত পরিপালন করতেও সরকারকে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে।

এদিকে, গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে গ্রাহকদের মূল টাকা (বিনিয়োগ) ও মুনাফা (সুদ) বাবদ পরিশোধ করা হয় ৮৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর এ খাতে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। সে হিসাবে দেখা যায়, গত অর্থবছরে লক্ষ্যের চেয়ে এই খাত থেকে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কম ঋণ নিয়েছিল সরকার।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছিল ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে, ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

ঢাকা/হাসনাত/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়