ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান ঢাবির নীল দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১৬, ৯ ডিসেম্বর ২০২২  
নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান ঢাবির নীল দলের

সম্প্রতি একটি মহল দেশে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। সংগঠনটির নেতারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিকদের প্রতি যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। 

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুছ সামাদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম ও অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে,  ১৯৭১ সালে ৯ মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ আর আড়াই লক্ষের অধিক মা-বোনের সর্বোচ্চ ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখ বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল। এই ডিসেম্বর মাসেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অনেক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারিয়েছিল। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে দিয়ে ডিসেম্বর মাসে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এ মাসেই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বুদ্ধিজীবীদের কবরস্থান ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে এবং বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখ লাখ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালনের মধ্যে দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত করে দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পবিত্র এ মাসের মর্যাদাকে অসম্মানিত করার জন্য একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসর নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে।

‘২০০৯ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার টানা তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এর সুফল জাতি ভোগ করছে। দক্ষতার সাথে করোনা মোকাবিলা এবং উন্নয়ন-অগ্রগতি অব্যাহত রাখায় বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। পদ্মা সেতু, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বঙ্গবন্ধু টানেলসহ বড় বড় প্রকল্প নির্মাণের মাধ্যমে জনগণের মনে বর্তমান সরকার জায়গা করে নিয়েছে। অপরপক্ষে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ২০১৪ সালে ২০০ জনের অধিক মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী একটি মহলের নেতিবাচক রাজনীতি, জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা, অগ্নিসন্ত্রাস, হরতাল-ধর্মঘট আর জ্বালাও- পোড়াওয়ের মত জাতি-বিধ্বংসী ভাবমূর্তির বাইরে আগামী নির্বাচনে জনগণের কাছে উপস্থাপনের মতো রাজনৈতিক পুঁজি তাদের হাতে নেই। তাই, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে সরকার উৎখাতের জন্য এই মহল অপতৎপরতা শুরু করেছে। প্রকাশ্যে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের হুমকিও তারা দিচ্ছে, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র উপায় নির্বাচন। বর্তমান সরকার ২০২৪ সালে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা’ করতে কোনো বাধা নেই। একটি রাজনৈতিক দল কর্তৃক ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় জনসভার কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল। কাজেই এ দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি একাত্তরের নৃশংসতাকে মনে করিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে একটি অগণতান্ত্রিক সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে শিশুপার্ক নির্মাণের মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি পাওয়া সত্বেও একটি মহল কর্তৃক জনস্বার্থ বিঘ্ন করে রাস্তায় জনসভা করার অনড় অবস্থানের কারণে ৭ ডিসেম্বর পল্টনে একজন নিরীহ পথচারীর দুঃখজনক প্রাণহানি ঘটেছে, যা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।

‘আমরা আশা করি, সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিধ্বংসী রাজনীতির পথ পরিহার করে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসবে। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিধান অনুযায়ী কর্মসূচি পালনের অধিকার ভোগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। অন্যথায়, গণতান্ত্রিক ধারা বাধাগ্রস্ত হলে তা কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজ যেকোনো অগণতান্ত্রিক কর্মতৎপরতার বিরুদ্ধে সর্বদা সজাগ থেকেছে। বর্তমানেও যেকোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিকদের প্রতি যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ইয়ামিন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়