ঢাকা, রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রেমের গুঞ্জন সত্যি হয়েছিল যাদের

আমিনুল ইসলাম শান্ত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২০ ৯:৪১:৩৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২০ ৩:০০:২৬ পিএম

‘প্রেমের মধ্যে ভয় না থাকলে রস নিবিড় হয় না’— উক্তিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। পশ্চিমা বিশ্বে প্রেম গোপন বিষয় না হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে বিষয়টি এখনো গোপনীয়। সাধারণ মানুষ থেকে শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের কাছেও যেন বিষয়টি ভীষণ গোপনীয়। তাইতো প্রিয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েও মুখে কুলুপ আঁটেন তারা।

শোবিজের অনেক তারকা রয়েছেন যারা ডুবে ডুবে জল খান। তাদের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মিডিয়াতে গুঞ্জন উঠলে অস্বীকারও করেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো— পরবর্তী সময়ে সেইসব তারকারাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আশির দশক থেকে বর্তমান সময়ের আলোচিত প্রেমিক যুগলকে নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন। 

নাঈম-শাবনাজ: নব্বই দশকের শুরুর দিকে ‘চাঁদনী’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন চিত্রনায়িকা শাবনাজ। এহতেশাম পরিচালিত এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেন নাঈম। এতে অভিনয় করতে গিয়ে ঘনিষ্ঠ হন এই তারকা জুটি। এরপর বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেন। শুরুতে তাদের প্রেমকাহিনি মিডিয়ায় চাউর হলেও এ খবর তারা অস্বীকার করেন। কিন্তু এই জুটির প্রেমের গুঞ্জন ১৯৯৬ সালে পরিণয়ে রূপ নেয়।

মৌসুমী-ওমর সানি: ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় মৌসুমীর। শুরুতে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে জড়িয়ে তার প্রেমের গুঞ্জন চাউর হয়। পরবর্তীতে ওই সময়ের আরেক জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান মৌসুমী। এ নিয়ে মিডিয়াতে নানা চর্চা হলেও এ সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন তারা। তবে সব গুঞ্জন পেছনে ফেলে ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট সংসার পাতেন মৌসুমী-ওমর সানি। এই দম্পতির ফারদিন এহসান স্বাধীন (পুত্র) এবং ফাইজা (কন্যা) নামে দুই সন্তান রয়েছে।

শাকিব খান-অপু বিশ্বাস: ঢাকাই চলচ্চিত্রের সফল জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তারা। কাজের সূত্রে পরস্পরের কাছে আসেন এই জুটি। তারপর ভালোবাসা। এ জুটির প্রেম নিয়ে নানা সময় প্রেমের গুঞ্জন উঠেলেও তারা অস্বীকার করেন।  শুধু তাই নয়, ২০০৮ সালে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের একটি হাসপাতালে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন অপু। প্রেম-বিয়ে ও সন্তান পুরো বিষয় সবার কাছ থেকে গোপন রাখেন এই দম্পতি। দীর্ঘ আট বছর পর পুত্র আব্রাম খান জয়কে নিয়ে গণমাধ্যমে হাজির হন অপু বিশ্বাস। এরপর শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। সর্বশেষ বিবাহবিচ্ছেদ হয় এই আলোচিত দম্পতির।

বিপাশা হায়াত-তৌকীর আহমেদ: অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। আশির দশকের শেষের দিকে অভিনয়ে নাম লেখান। অন্যদিকে বিপাশা হায়াত নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক বন্ধুর আমন্ত্রণে সেখানে যান তৌকির আহমেদ। সেখানে বিপাশা হায়াতের আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হন। সেদিন বিপাশার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এরপর একাধিকবার তৌকীরের সঙ্গে দেখা হয় বিপাশার। কিন্তু ‘রূপনগর’ নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্বের শক্ত বাঁধন তৈরি হয়। ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা জন্ম নেয়। যদিও বিপাশা হায়াত মনে মনে পছন্দ করতেন তৌকীরকে। তবে প্রেমের প্রস্তাব দেন তৌকীর আহমেদ। 

দুজনেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। তাই এ জুটিকে ঘিরে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। যদিও বরাবর তারা অস্বীকার করেন। কিন্তু সেই গুঞ্জনই সত্যি হয় ১৯৯৯ সালের ২৩ জুলাই। এদিন তাদের ভালোবাসা পরিণয়ে রূপ নেয়। সেই থেকে এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন তারা। বিপাশা-তৌকির দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে।

জাহিদ হাসান-সাদিয়া ইসলাম মৌ: আশির দশকের শেষের দিকে শোবিজে পা রাখেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে তার পথচলা। পরবর্তীতে অভিনয়ে নাম লেখান। নৃত্যে তার জোর দখল রয়েছে। অন্যদিকে ১৯৮৬ সালে ‘বলবান’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। নব্বই দশকে নাম লেখান টেলিভশন নাটকে। এই দুই শিল্পী পরস্পরের কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। কিন্তু তখনো তাদের পরিচয় হয়নি। 

বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে দুজনের একসঙ্গে পারফর্ম করার সুযোগ হয়। পর্বটি প্রচার হওয়ার পর ব্যাপক আলোচিত হন জাহিদ হাসান ও মৌ জুটি। এরপর নানা অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। বাড়তে থাকে তাদের ঘনিষ্ঠতা।  কিন্তু এ জুটি প্রথমে এই সম্পর্কের কথা উড়িয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে তাদের প্রেম পরিণয়ে রূপ নেয়। এ তারকা দম্পতির পুষ্পিতা ও পূর্ণ নামে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

হিল্লোল-নওশিন: টেলিভিশন অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল। শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নির সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন তিনি। এ সংসারে ইতি টানার পর প্রেমের সম্পর্কে জড়ান নওশিনের সঙ্গে। একসঙ্গে নাটকে কাজ করতে গিয়ে সম্পর্ক তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, গোপনে বিয়েও করে ফেলেন এই জুটি। তাদের প্রেম-বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন উঠলেও তা অস্বীকার করেন। অনেক জল ঘোলার পর বিয়ের কথা স্বীকার করেন এই দম্পতি। 

মুরাদ পারভেজ-সাবা: মডেল-অভিনেত্রী সোহানা সাবা। অন্যদিকে রয়েছেন পরিচালক মুরাদ পারভেজ। মুরাদ তার নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন সাবাকে। কিন্তু সাবা শিডিউল দেন না। পরপর তিনবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর মনোকষ্ট পান মুরাদ। কিন্তু এই নির্মাতা ছাড়ার পাত্র নন, তাই আবারো চেষ্টা করেন। অবশেষে শিডিউল দেন সাবা। এরপর নাটকে কাজ করতে গিয়ে নির্মাতার প্রেমে পড়েন সাবা। লুকিয়ে লুকিয়ে চলে এই জুটির প্রেমলীলা। এক পর্যায়ে গোপনে বিয়ের কাজটিও সেরে ফেলেন তারা। কিন্তু প্রেম-বিয়ের কথা অস্বীকার করতে থাকেন। দীর্ঘ এক বছর পর বিয়ের কথা স্বীকার করেন সাবা-মুরাদ। সবকিছু ভালোই চলছিল কিন্তু ২০১৬ সালে এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

হৃদয় খান-সুজানা: শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী হৃদয় খান ও জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী সুজানা জাফর। ২০১০ সালে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এই জুটি। তারপর দুজনকে ঘিরে চলতে থাকে নানা গুঞ্জন। কিন্তু বিষয়টি মিডিয়াকে এড়িয়ে যান এই জুটি। ২০১৪ সালে এসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এর মাধ্যমে তাদের প্রেমের গুঞ্জন বাস্তবে রূপ নেয়। কিন্তু মতাদর্শে অমিল থাকার কারণে ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে এই দম্পতির।

তাহসান-মিথিলা: ২০০৪ সাল। তাহসান তখন ব্ল্যাক ব্যান্ডের গায়ক। অন্যদিকে রাফিয়াত রশীদ মিথিলা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এক বন্ধুর অনুরোধে তাহসানের বাসায় অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য যান মিথিলা। সেখানেই তাহসান-মিথিলার পরিচয়। তারপর চলে মনের লেনাদেনা। পরস্পর জড়িয়ে পড়েন প্রেমের সম্পর্কে। প্রথমে এ সম্পর্কের কথা গোপন রাখেন তাহসান। এ নিয়ে মিডিয়াতে নানা চর্চা হলেও অস্বীকার করেন। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই জুটি। এ দম্পতির আয়রা তাহরিম খান নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৭ সালের মে মাসে তাহসান-মিথিলা প্রায় ১১ বছরের সংসারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটায়।

শখ-নিলয়: ছোট পর্দার আলোচিত অভিনয়শিল্পী নিলয় আলমগীর ও আনিকা কবীর শখ। ২০১১ সালের নভেম্বরে টেলিকম কোম্পানির বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করতে গিয়ে কাছাকাছি আসেন তারা। ২০১২ সালে সানিয়াত হোসেন পরিচালিত ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তারা। তখন তাদের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু সব এড়িয়ে যান তারা। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দুজন। 


ঢাকা/শান্ত/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন