ঢাকা     শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩০

‘জন্মদিন এলেই একজন ব্যক্তিকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে হবে’

প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ২ ডিসেম্বর ২০২৩  
‘জন্মদিন এলেই একজন ব্যক্তিকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে হবে’

বরেণ্য অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও আবৃত্তিকার সুবর্ণা মুস্তাফা। আশির দশকে ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী। নাটক-সিনেমায় সমান তালে অভিনয় করেন। আফজাল হোসেন, হুমায়ূন ফরীদি ও আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে জুটি বেঁধে পৌঁছে গিয়েছিলেন সব শ্রেণির মানুষের কাছে। ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের কালজয়ী মুনা চরিত্রে অভিনয় করে কালজয়ী হয়েছেন। চিরসবুজ গুণী এই অভিনেত্রীর আজ জন্মদিন।

বিশেষ এ দিনটিতে প্রিয় অভিনেত্রীকে ফোনকল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। পাশাপাশি সহকর্মীরাও তাকে অভিনন্দিত করছেন। বিশেষ এই দিনটিতে তিনি তার বাবা গোলাম মুস্তাফাকে স্মরণ করছেন। তিনি বলেন, ‘জন্মদিন এলেই যে একজন ব্যক্তিকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে হবে, মনে করতে হবে– এটা আমার বুবা (বাবা গোলাম মুস্তাফা) কখনও ভাবতেন না। তিনি সবসময় আমাকে বলতেন, তোকে এমন কিছু কাজ করতে হবে, যে কাজের কারণেই মানুষ তোকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাই আমি মনে করি, একজন কৃষক হোক, শিক্ষক হোক কিংবা একজন রন্ধনশিল্পী হোক না কেন, তিনি যদি তার কাজে চূড়ান্ত সাফল্য আনতে পারেন; তার কাজের কারণেই তিনি মানুষের মনে থাকবেন, স্মরণে থাকবেন।

প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৫৯ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। শৈশবেই বাবার অনুপ্রেরণায় সংস্কৃতির প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। নিজেকে জড়িয়ে নেন মডেলিং আর অভিনয়ের সঙ্গে। সম্মোহনের চাউনি আর অসাধারণ বাচনভঙিতে সুবর্ণা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন চমৎকার ব্যক্তিত্বের এক অভিনেত্রী হিসেবে।

প্রথমে মঞ্চে কাজ করলেও আশির দশকে টিভিতে অভিষেক ঘটে তার। মঞ্চ-টিভি দুই মাধ্যমেই জনপ্রিয়তা পান সুবর্ণা। সে সময় তিনি বেশকিছু বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবেও কাজ করেন। চলচ্চিত্রে সুবর্ণার অভিষেক ঘটে ১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ‘ঘুড্ডি’র মাধ্যমে। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে সাফল্য পেলেও তিনি নিয়মিত গড়পড়তা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। কিছু জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি দেখা গেছে। ‘নয়নের আলো’ সিনেমায় তার অভিনয় সব শ্রেণির দর্শককে নাড়া দিয়েছিল। ১৯৮৩ সালে ‘নতুন বউ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

সুবর্ণা মুস্তাফা ব্যক্তিজীবনে ভালোবেসে দাম্পত্য গড়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদির সঙ্গে। সেই সংসার ২০০৮ সালে ভেঙে গেলে তিনি পুনরায় বিয়ে করেন নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার বদরুল আলম সৌদকে।

মাঝে মাঝেই দারুণ সব চরিত্র নিয়ে অভিনয়ে দেখা যায় সুবর্ণা মুস্তাফাকে। কাজ করে যাচ্ছেন নিভৃতচারীর মতোই। সর্বশেষ তিনি দর্শক মাতিয়েছেন ‘গণ্ডি’ সিনেমা দিয়ে। এ সিনেমায় তাকে দেখা গেছে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ‘ফেলুদা’ খ্যাত সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিপরীতে।

২০১৯ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। পাশাপাশি একই বছর একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মনোনীত হয়েছেন। সেই সূত্রে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে।

ঢাকা/রাহাত/এনএইচ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়