ঢাকা     সোমবার   ২৩ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১০ ১৪৩২ || ৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চলচ্চিত্রে কৌতুক ও ব্যঙ্গ 

বিধান রিবেরু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৪, ২৩ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৩:৩৩, ২৩ মার্চ ২০২৬
চলচ্চিত্রে কৌতুক ও ব্যঙ্গ 

আনন্দ, বেদনা, ভয় ও বিস্ময়ের মতো হাস্যরসও এক ধরনের অনুভূতি, মানবীয় আবেগের একটি দিক। কাজেই চলচ্চিত্রে রোমান্টিক, অ্যাকশন, সায়েন্স ফিকশন, হরর ইত্যাদি জনরার ভিড়ে কমেডি ও স্যাটায়ার জনরাও বেশ পোক্ত জায়গা নিয়ে আছে প্রায় শুরু থেকেই। বিশেষ করে কমেডির কথা যদি বলি, তাহলে দেখা যাবে বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই মানুষ সেলুলয়েডে হাসির গল্প দেখতে ভালোবাসে।

১৮৯৫ সালে চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর, কয়েক বছর প্রামাণ্যচিত্রের ধাঁচে চলচ্চিত্রকে চলতে হয়েছে। চলচ্চিত্রে ফিকশন বলার চল শুরুর পর, বিংশ শতকের দশের দশকে আবির্ভাব ঘটে চ্যাপলিন, কিটন, লয়েডদের। তখন নির্বাক যুগ। সেই যুগে সংলাপ ছাড়াই তাঁরা অসাধ্য সাধন করেছেন শরীরের ভাষা দিয়ে, গল্পের আকস্মিকতা দিয়ে; বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। মহান এই অভিনেতারা যেভাবেই হোক গল্পটা  পরিবেশন করেছেন হাস্যরসের সঙ্গে মিশিয়ে। সেই দৃশ্য দেখে মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে, কিছুক্ষণের জন্য হলেও মানুষ ভুলে থেকেছে তাদের দৈনন্দিনের কঠোর-কঠিন পরিস্থিতি।

আরো পড়ুন:

ত্রিশের দশকে চলচ্চিত্র সবাক হওয়ার পর কমেডি নতুন মাত্রা পায়, তখন শুধু শরীরের ভাষা নয়, মুখের ভাষাও হাসির খোরাক জোগাতে থাকে। দিন যত গড়িয়েছে কমেডি পরিণত হয়েছে, বলা যায় কমেডি আরো জটিল রূপ ধারণ করেছে। সত্তরের দশকে আমরা ডার্ক কমেডি দেখেছি, মেটা কমেডি এমনকি পোস্টমডার্ন হিউমার। তবে বর্তমান থেকে আমরা যদি প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ফ্ল্যাশব্যাকে যাই, তাহলে দেখব গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল কমেডি বলতে যা বুঝিয়ে ছিলেন মানুষের নির্বিষ ও অবলা ভুলচুক, যেগুলো সাধারণ গড়পড়তা মানুষ করে না, যেসব কাজ বোকা বোকা ও হাসির উদ্রেক করে সেগুলোকে। তবে সেই সাদামাটা কমেডি আধুনিকতার জটিল ঘূর্ণিপাকে পড়ে ডার্ক কমেডি বনে গেছে। ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ’ (১৯৬৪) যেমন পরমাণু বোমা নিয়ে তৈরি করা ডার্ক বা ব্ল্যাক কমেডি, অবশ্য একে অন্য নামেও লোকে ডাকে, পলিটিক্যাল স্যাটায়ার বা রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, এই বিষয়টি কমেডি থেকে একটু আলাদা। 

কমেডি নখদন্তহীন, পাতিত পানি, ইংরেজিতে যাকে বলে ডিসটিলড ওয়াটার, এটি কাউকে আঘাত করে না বা কাউকে আক্রমণ করে না। কিন্তু ডার্ক কমেডি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মজা করে, মজাটা এমন করে হাজির করে যা দেখে দমফাটা বা দমআঁটা হাসি আসবে, কিন্তু মনে মনে মর্মাহত হবেন, আপনি অথবা যাকে লক্ষ্য করে বানানো তিনি। এই ডার্ক কমেডির একটি ধ্রুপদী উদাহরণ হতে পারে চার্লি চ্যাপলিনের ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’। কারণ এটি ফ্যাসিস্ট অ্যাডলফ হিটলারকে নিয়ে উপহাস করে বানানো। তবে আধুনিক বোঝাপড়ার জায়গা থেকে এই সিনেমাটি শেষতক ডার্ক কমেডি থেকে সরে গিয়ে মানবিকতার গল্প বলে। এর তুলনায় বরং স্ট্যানলি কুব্রিকের ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ’ অনেকটা বেশি ডার্ক কমেডি। কারণ এই সিনেমায় ডুমসডে মেশিনের মাধ্যমে পারমাণবিক বোমার আঘাতে গোটা দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রত্যক্ষ করি। খুবই নেতিবাচক দৃশ্য, কিন্তু বিশ্বনেতাদের যে উন্মাদনা বিষয়টি চলচ্চিত্রে তীক্ষèভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।

ডার্ক কমেডির ধ্রুপদী উদাহরণ চার্লি চ্যাপলিনের ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’

কমেডি ফিল্ম যেখানে মানুষের মুখে হাসি ও মনে আনন্দ জাগানোর ইন্তেজাম করে, সেখানে স্যাটায়ার ফিল্ম কাউকে না কাউকে উপহাস ও বিদ্রুপ করে। কমেডিতে যেমন জনৈক ব্যক্তির বোকামি; সে হোক শারীরিক অভিনয় বা স্ল্যাপস্টিকের মাধ্যমে অথবা সংলাপে শব্দের খেলা ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় খুবই নির্মল আনন্দ দেওয়ার জন্য; স্যাটায়ারে চাঁদমারি করা হয় জনপরিচিত কোনো ব্যক্তি অথবা রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম প্রভৃতি। স্যাটায়ার মানুষকে স্রেফ আনন্দ দিতে চায় না, বরং কিছু মানুষ বা সমাজের যে অসঙ্গতি ও ভণ্ডামি আছে সেটি উন্মোচন করতে চায় বিদ্রুপের মাধ্যমে। ক্ষমতা, দুর্নীতি ও সামষ্টিক অন্ধত্বের সামনে আয়না ধরতে চায় ব্যঙ্গ। 

কাজেই বলা যায়, স্যাটায়ার অনেকটা সমালোচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে সেটা সে করে হাস্যরস জারিত করার মাধ্যমে। এটা বলাবাহুল্য নয় যে, কমেডি ও স্যাটায়ার প্রায়শই হাত ধরাধরি করে চলে। জনরার বিচারে অবশ্য ইদানীং কমেডি বেশি পছন্দ করছে রোমান্টিক সিনেমাকে, তারা নাম নিয়েছে রোম-কম। বাজারে রোম-কমের কাটতি বেশি হওয়ায় এটা হচ্ছে। বুঝতে হবে, সমাজে মানুষের নানাবিধ টানাপোড়েন ও দুশ্চিন্তার ভেতর দিয়ে যেতে হয়, তাই চলচ্চিত্রের কাছে তারা হালকা বিনোদন চায়, আর সেটির সফল জোগান দিয়ে যাচ্ছে চলচ্চিত্রের রোমান্টিক-কমেডি জনরা। হলিউড ও বলিউডে আজকাল এই ধরনের সিনেমার জয়জয়কার।

তবে বিশুদ্ধ কমেডি বলতে কী বোঝায়, চলচ্চিত্রের প্রায় সোয়া একশ বছরের অভিযাত্রায় কয়েকটি চলচ্চিত্রের দিকে তাকালে তা স্পষ্ট হয়। যেমন: চার্লি চ্যাপলিনের ‘সিটি লাইটস’ (১৯৩১)। বিলি ওয়াইল্ডারের ‘সাম লাইক ইট হট’ (১৯৫৯) ও ‘দি অ্যাপার্টমেন্ট’ (১৯৬০)। জ্যাক তাতির ‘প্লেটাইম’ (১৯৬৭) অথবা উডি অ্যালেনের ‘অ্যানি হল’ (১৯৭৭)। এগুলো নিছক আনন্দ দেয়, এসব সিনেমার ভেতর ডার্ক কমেডি নেই, পলিটিক্যাল স্যাটায়ার নেই, আছে বিশুদ্ধ হাসি।

স্যাটায়ার বা ডার্ক কমেডির উদাহরণও কিন্তু ইতিহাসে ভূরিভূরি: সিডনি লুমেটের ‘নেটওয়ার্ক’ (১৯৭৬), স্ট্যানলি কুব্রিকের ‘আ ক্লকওয়ার্ক ওরেঞ্জ’ (১৯৭০), টেরি গিলিয়ামের ‘ব্রাজিল’ (১৯৮৫), লুই বুনুয়েলের ‘দ্য ডিসক্রিট চার্ম অব দ্য বুর্জোয়াজি’ (১৯৭২) প্রভৃতি। এমনকি হাল আমলের বং জুন-হো নির্মিত ‘প্যারাসাইট’ (২০১৯) সিনেমাটিকেও অনেকে নয়া ধ্রুপদী ডার্ক কমেডির মর্যাদা দিচ্ছেন। আরেকটি আধুনিক সিনেমার কথা না বললেই নয়, সেটি হলো রুবেন উস্টল্যান্ডের ‘ট্রায়াঙ্গেল অব স্যাডনেস’ (২০২২)। ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পাম ডি’য়র জিতে নিয়েছিল এটি। ‘প্যারাসাইট’ ও ‘ট্রায়াঙ্গেল অব স্যাডনেস’ দুটি সিনেমাই শ্রেণিবৈষম্যকে পুঁজি করে বানানো ডার্ক কমেডি বা স্যাটায়ার।

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করেও সিনেমার চিত্রনাট্য রচিত হয়েছে

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও এ ধরনের গভীর কৌতুকের দেখা মিলছে ইদানীং, তবে এই জায়গায় বাংলাদেশ হুট করে আসেনি। এটা বোঝার জন্য একটু অতীতের দিকে তাকানো প্রয়োজন। আশি বা নব্বই দশক পর্যন্ত বাণিজ্যিক সিনেমায় একটা ব্যাপার থাকত, সেটি হলো কমিক রিলিফ, এই জায়গার জন্য একজন কৌতুক অভিনেতা ছিল অবধারিত। চলচ্চিত্রে প্রেম, নাটকীয়তা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মারামারি ইত্যাদির মাঝে মাঝে একটু হাসি, একটু স্বস্তি, যেন প্রেম ও বীররসের ভেতর মানুষ হাস্যরসের স্বাদও আস্বাদন করতে পারে, টানটান উত্তেজনার ভেতর স্নায়ুকে একটু আরাম দিতে পারে। সেজন্য আমরা আশি কি নব্বই দশক পর্যন্ত বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্রে অনেক কৌতুক অভিনেতার দেখা পেয়েছি- খান জয়নুল, টেলি সামাদ, সাইফুদ্দিন, আশীষ কুমার লোহ, রবিউল, হাবা হাসমত, ব্ল্যাক আনোয়ার, দিলদার, আফজাল শরীফ প্রমুখ। তাঁরা যে ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতেন, সেই ধরনের চরিত্র আর চলচ্চিত্রে দেখা যায় না, এর কারণ বহুবিধ।

বর্তমানে গোটা সিনেমার বাজেটের প্রায় অর্ধেক নিয়ে নেন বড় তারকারা, কাজেই এ ধরনের ছোটখাটো চরিত্র বাদ দিতে হয়। তাছাড়া এখন হাসির জন্য আলাদা করেই সিনেমা বানানো হয়, এটা অনেকটা দৈনিক পত্রিকার ভেতর বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট থেকে বেরিয়ে আলাদা ম্যাগাজিন প্রকাশের মতো। আপনি একটি দৈনিক পত্রিকা ঘরে নিয়মিত রাখলে, তাতেই বিনোদন, খেলাধুলা, রম্য, সবই পাবেন। আলাদা করে আর স্যাটায়ার ম্যাগাজিন বা স্পোর্টস ম্যাগাজিন কেনার প্রয়োজন পড়ে না। আগেকার দিনের সিনেমাগুলো ছিল এমন, তাই একেকটি সিনেমার দৈর্ঘ্য হতো তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা। একের ভেতর অনেক যে! এখন আর এক সিনেমায় সব মিশিয়ে দেওয়া হয় না। 

কৌতুক অভিনেতাদের তাই বলে কেউ ভুলে যাননি, তাদের অভিনয় এখনো দর্শককে সমানভাবে আনন্দ দেয়। এই অভিনেতারা প্রচলিত অর্থে ডার্ক কমেডি করেননি, এঁরা আমি বলবো, চার্লি চ্যাপলিনেরই অপভ্রংশ, অন্তত শুরুর চার্লি চ্যাপলিন। এ জন্য অনেকেই হয়তো শুনে থাকবেন, বাংলাদেশের কৌতুক অভিনেতাদের ‘চাল্লি’ বলেও ডাকা হতো। তো এঁরা অভিনয় ও সংলাপ দিয়ে নিছক লোক হাসাতো। তবে নব্বই দশকের পর থেকে বাংলাদেশ শুধু নয়, গোটা দুনিয়ার পরিস্থিতিই জটিল হয়ে উঠতে থাকে। ঠান্ডাযুদ্ধ বলে কথা! একবিংশ শতকে মানুষের হাতে আসতে থাকে ইউটিউব, ফেসবুক ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম। সেখানে শিল্পের একধরনের গণতন্ত্রায়ন ঘটেছে। মানুষ সেসব প্ল্যাটফর্মে নিজেরাই হাসির কনটেন্ট বানায়, নিজেরাই আবার সেসব ভোগ করে। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আমরা কৌতুক অভিনেতাদের সেই পরম্পরাকেই বহন করে নিয়ে যেতে দেখি।

অবশ্য এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, অনেক আধেয় সৃজনকারী করেন সিরিয়াস কাজ, কিন্তু সেগুলো দেখে লোকে ভাবে কমেডি। এ প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে অনন্ত জলিলের কথা। তিনি অ্যাকশন ফিল্ম বানালেও, আইএমডিবির সাইটে দেখা যায় সেগুলো নিবন্ধিত হয়েছে কমেডি হিসেবে। 

বাংলাদেশে কমেডি চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ইতিহাসের পাশাপাশি, ইদানীং কিন্তু বেশ ভালো কিছু ডার্ক কমেডি বা স্যাটায়ার ফিল্ম তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে। বলা যেতে পারে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ (২০১২), ‘লাস্ট ডিফেন্ডার্স অব মনোগামি’ (২০২৪), মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের ‘দেলুপি’ (২০২৫), আকাশ হকের ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল’ (২০২৬) প্রভৃতির কথা। এই সিনেমাগুলো সমাজের অন্ধ ধর্মবিশ্বাস, যৌনতাচর্চা ও ক্ষমতাচর্চার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছে।

বাংলাদেশের মতো ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও কিন্তু ডার্ক কমেডি হয়েছে। সেসব কাজের মধ্যে অগ্রগণ্য বলা যেতে পারে মৃণাল সেনের ‘কোরাস’ (১৯৭৪) ও সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ (১৯৮০) এই দুটি কাজকে। পশ্চিমবঙ্গে একসময় বাংলাদেশের মতোই কৌতুক অভিনেতাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। মানে জনপ্রিয়তার মাত্রা এতটাই ছিল যে আমরা দেখেছি একজন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করেই গোটা সিনেমার চিত্রনাট্য রচিত হয়েছে ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ (১৯৫৮)।

টেলি সামাদ

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা বাংলাদেশেও কম ছিল না, তাছাড়া তিনি পূর্ববঙ্গেরই লোক ছিলেন। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তুলসী চক্রবর্তী ও রবি ঘোষের কথা না বললে, কলকাতার বাংলা কমেডির আখ্যান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে বলতে হয়, বাংলাদেশে যারা ‘চাল্লি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন, তুলসী চক্রবর্তী ও রবি ঘোষ কিন্তু সেই ধরনের কমেডি বড় পর্দায় করেননি। তারা অনেক বেশি মনোযোগী ছিলেন মেথড অ্যাক্টিংয়ে। তারা যে কোনো চরিত্রে কৌতুক ব্যাপারটা ঘটাতে পারতেন, কৌতুক অভিনেতার চরিত্রে তাদের কৌতুক আবদ্ধ থাকেনি। তুলসী চক্রবর্তীর ‘পরশপাথর’ (১৯৫৮) এবং রবি ঘোষের ‘গল্প হলেও সত্যি’ (১৯৬৬) সিনেমা দুটিকে প্রমাণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

চলচ্চিত্রে কমেডি ও স্যাটায়ার নিয়ে একাধিক অভিসন্দর্ভ রচনা করা সম্ভব, তবে সেদিকে না গিয়ে কেবল এটুকুই বলতে চাই, আদতে হাসি আর বিদ্রুপের ভেতর দিয়ে মানুষ যুগে যুগে নিজেদের মন হালকা করেছে, ভেতরের ক্ষোভ প্রশমিত করেছে। যে সমাজে হাসাহাসি আর বিদ্রুপ করার স্বাধীনতা বেশি, সে সমাজ সুস্থতার মাপকাঠিতে উপরে অবস্থান করে, কারণ এতে মানুষের মনের ভেতর চাপা দুঃখ-বেদনা-ক্ষোভ বিস্ফোরন্মুখ হয়ে ওঠে না। একটা জায়গায় গিয়ে সেসব জমে ওঠা নেতিবাচক জিনিসগুলো নির্গমনের পথ পায়। তাই আঁকিয়েদের যেমন কেরিকেচার করতে দেওয়া উচিত, তেমনই নির্মাতাদেরও কমেডি বা স্যাটায়ার বানাতে দেওয়া উচিত। এতে করে সমাজের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

লেখক: চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ

ঢাকা/তারা

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়