ঢাকা     বুধবার   ২৫ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১২ ১৪৩২ || ৫ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাংলাদেশের কাচ্চি বিরিয়ানি আমার ভীষণ প্রিয়: সুস্মিতা চ্যাটার্জি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৫, ২৫ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৬:৩২, ২৫ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের কাচ্চি বিরিয়ানি আমার ভীষণ প্রিয়: সুস্মিতা চ্যাটার্জি

সুস্মিতা চ্যাটার্জি

ইঞ্জিনিয়ারিং জগত ছেড়ে আলো-ঝলমলে অভিনয়ের পর্দায় পা রাখা সহজ নয়। কিন্তু সেই কঠিন পথটিই বেছে নিয়েছিলেন কলকাতার তরুণ অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা থেকে শুরু করে অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা তৈরি—তার গল্পটা যেন একেবারেই আলাদা। 

ছোট পর্দায় কাজের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু। ধীরে ধীরে বড় পর্দায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। এবার সেই পথ পেরিয়ে বাংলাদেশের সিনেমায় অভিষেক—যা তার ক্যারিয়ারের নতুন এক অধ্যায়। 

আরো পড়ুন:

ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘রাক্ষস’-এ সিয়াম আহমেদের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন সুস্মিতা। নতুন দেশ, নতুন ইন্ডাস্ট্রি, নতুন অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে এই কাজটি তার কাছে বিশেষ কিছু হয়ে থাকবেই। 

‘রাক্ষস’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুস্মিতার কণ্ঠে স্পষ্ট উচ্ছ্বাস, “এটা আমার প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা। সত্যি বলতে, পুরো অভিজ্ঞতাটা অসাধারণ। শুরু থেকেই সবাই আমাকে খুব আপন করে নিয়েছে।” 

শুটিং সেটের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি আলাদা করে উল্লেখ করেন টিমের সদস্যদের। প্রোডাকশন টিমের শাহরিন ও আজিমের সঙ্গে তৈরি হয়েছে সহজ, আন্তরিক সম্পর্ক। পরিচালক মেহেদি হাসান হৃদয়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকেও তিনি ‘দারুণ’ বলেই আখ্যা দেন। 

তবে সহশিল্পী সিয়াম আহমেদের প্রসঙ্গে আসতেই যেন আরও খোলামেলা হয়ে ওঠেন সুস্মিতা। “সিয়াম খুব ভালো একজন মানুষ, অসাধারণ অভিনেতা। ভীষণ সাপোর্টিভ। আমাদের মধ্যে খুব ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। কাজটা আমরা খুব সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরেছি। এখন সে আমার খুব ভালো বন্ধু,”—বলছিলেন তিনি। 

শুধু কাজ নয়, এই সফরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতিও। ‘রাক্ষস’-এর শুটিং হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ঢাকায়। দুই ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি—সবকিছু মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ছিল সমৃদ্ধ। তবে এর মধ্যেও বাংলাদেশের একটি বিষয় তার মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে, তা হলো—খাবার। 

হেসে সুস্মিতা বললেন, “বাংলাদেশের খাবার আমি কখনো ভুলতে পারব না। বিশেষ করে কাচ্চি বিরিয়ানি—এটা আমার ভীষণ প্রিয় হয়ে গেছে।” 

বাংলাদেশি সিনেমা নিয়েও তার আগ্রহ নতুন নয়। আগে থেকেই এখানকার চলচ্চিত্র দেখতেন এবং পছন্দ করতেন। এবার সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা সেই ভালো লাগাকে আরও গভীর করেছে। 

“আমি বাংলাদেশি সিনেমা দেখি এবং সত্যিই পছন্দ করি। এখানে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। আমি চাই, ভবিষ্যতে আরও বেশি কাজ করতে। সবার সঙ্গেই কাজ করার ইচ্ছা আছে,”—বললেন সুস্মিতা। 

একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম কাজ অনেক সময়ই অনিশ্চয়তায় ভরা থাকে। কিন্তু সুস্মিতা চ্যাটার্জির ক্ষেত্রে সেটি হয়ে উঠেছে উল্টো—একটি উষ্ণ অভিজ্ঞতা, নতুন সম্পর্ক আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনায় ভরা এক যাত্রা। 

ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে অভিনয়—তার এই পথচলা যেমন ব্যতিক্রম, তেমনই বাংলাদেশি সিনেমায় তার এই শুরুটাও হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘ এক গল্পের প্রথম অধ্যায়।

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়