আল্লু অর্জুনের পারিশ্রমিক নেওয়ার কৌশল কতটা জানেন?
ভারতের দক্ষিণী সিনেমার প্রভাবশালী তারকা অভিনেতা আল্লু অর্জুন। অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের মুগ্ধ করে নিজেকে বৈশ্বিক আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেতা ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত তারকাদের একজন হিসেবে স্বীকৃত। তবে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক গ্রহণের পরিবর্তে প্রোফিট-শেয়ারি মডেল বেছে নিয়েছেন; যা তার আয়কে সর্বাধিক করতে সহায়তা করেছে। কেবল তাই নয়, এটি প্রযোজকদের জন্যও স্বস্তি এনে দিয়েছে। এই উদ্ভাবনী পদ্ধতি চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যাপক মনোযোগ কেড়েছে।
সাধারণত, অভিনয়শিল্পীরা তাদের কাজের জন্য পূর্বনির্ধারিত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন, যা কোনো চলচ্চিত্রের বক্স অফিস সাফল্যের ওপর নির্ভর করে না। কিন্তু এর বিপরীতে আল্লু অর্জুন প্রোফিট-শেয়ারিং কৌশল গ্রহণ করেছেন। যেখানে তার চলচ্চিত্র থেকে অর্জিত মোট লাভের ৩০ শতাংশ পেয়ে থাকেন। এর অর্থ হলো, একটি চলচ্চিত্র বক্স অফিসে যত বেশি সফল হবে, তার আয়ও তত বেশি হবে। উদাহরণস্বরূপ: কোনো চলচ্চিত্র যদি ১ হাজার কোটি রুপি আয় করে, তবে আল্লু অর্জুন পাবেন ৩০০ কোটি রুপি; আবার ৫০০ কোটি রুপি আয় করলে ১৫০ কোটি রুপি পাবেন তিনি।
জি. ধনাঞ্জয় একজন খ্যাতিমান প্রযোজক ও কলামিস্ট। আল্লু অর্জুনের পারিশ্রমিক কাঠামো ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আল্লু অর্জুন যা চান, তা হলো সিনেমা যত টাকা আয় করবে, প্রতি এক রুপি থেকে ৩০ পয়সা নেবেন। এতেই তিনি সন্তুষ্ট।” ধনাঞ্জয় ভারতের বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। এই পদ্ধতিটি অভিনেতা ও প্রযোজক উভয়ের জন্যই লাভজনক। কারণ এতে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক ও লাভ ভাগাভাগি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করার প্রয়োজন নেই বলে মত তার।
লভাংশ্য ভাগাভাগির মডেল শুধু আল্লু অর্জুনের জন্যই নয়, প্রযোজকদেরও আর্থিক চাপ কমিয়ে দেয়। ধনাঞ্জয় উল্লেখ করেন, এ পদ্ধতির কারণে প্রযোজকদের ঋণ কম নিতে হয়, ফলে সুদের হার ও মোট বাজেটও কমে আসে। এই আর্থিক কৌশল চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দ্রুত লাভজনক অবস্থায় পৌঁছাতে সহায়তা করে। এমনকি, একটি স্বাস্থ্যকর প্রযোজনা পরিবেশও তৈরি করে।
আল্লু অর্জুনের পরবর্তী সিনেমা ‘রাকা’। এ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পারছেন তিনি। সিনেমাটির ফার্স্ট লুক পোস্টার প্রকাশের পর ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন—দীপিকা পাড়ুকোন, ম্রুণাল ঠাকুর প্রমুখ। অ্যাটলি কুমার পরিচালিত এ সিনেমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা।
*জুম টিভি অবলম্বনে
ঢাকা/শান্ত