বাঙালি রান্নায় মরিচ এলো কীভাবে
সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
এশিয়ায় এক সময় মরিচ বলে কোনো ফসল ছিল না। ছবি: সংগৃহীত
বাঙালি রান্নায় প্রায় সব রেসিপিতে মরিচ ব্যবহার করা হয়, অথচ বাংলায় এক সময় মরিচ বলে কিছুই ছিলো না। ঝাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো গোলমরিচ। তাও শুধু ধনীরাই কিনতে পারতো। আজ আমরা যে কাঁচা বা শুকনা লাল মরিচ খাই, তার বৈজ্ঞানিক নাম Capsicum annuum. এই গাছের জন্ম বাংলা তো নয়ই বরং এশিয়াতেও নয়। এর উৎপত্তি বহু দূরে, লাতিন আমেরিকার মেক্সিকো এবং পেরু অঞ্চলে। হাজার হাজার বছর আগে সে সব দেশের মানুষ প্রথম মরিচ চাষ শুরু করে। তখন ইউরোপ বা এশিয়ার মানুষ এই ঝাল স্বাদের সঙ্গে একেবারেই পরিচিত ছিল না।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইউরোপীয়দের সমুদ্রযাত্রা বিশ্বকে বদলে দেয়। বিশেষ করে ক্রিস্টোফার কলম্বাস-এর অভিযানের পর নতুন পৃথিবী থেকে নানা ফসল ইউরোপে পৌঁছাতে শুরু করে। মরিচ ছিল তাদের একটি।
এরপর ধীরে ধীরে ইউরোপ থেকে এই নতুন মসলার যাত্রা শুরু হয় এশিয়ার দিকে। এই বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভাস্কো দা গামা-এর ভারত যাত্রা (১৪৯৮), যা ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যের পথ খুলে দেয়। পর্তুগিজ ব্যবসায়ীরা ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে মরিচ নিয়ে আসে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে—একসময় পৌঁছে যায় বাংলাতেও।
বাংলায় মরিচ আসার আগে মানুষ ঝাল হিসেবে রেসিপিতে ব্যবহার করা হতো পিপুল (লম্বা মরিচ) এবং গোলমরিচ। কিন্তু এই মসলাগুলোর দাম ছিল বেশি, আর সহজলভ্যও ছিল না। বাংলার কৃষকেরা মরিচ উৎপাদন শুরু করার পরে এদেশের সবার কাছে মরিচ সহজলভ্য হয়ে যায়। এরপর ডাল, ভর্তা, তরকারি, মাছের ঝোল—সবকিছুতেই মরিচ ঢুকে পড়ে।
ঢাকা/লিপি
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের, তবে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে