ঢাকা     বুধবার   ২২ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৯ ১৪৩৩ || ৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নতুন হাওয়ায় ভাসে পেসের গান, রিপন-সাকলাইনের উড়ান

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:২৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬  
নতুন হাওয়ায় ভাসে পেসের গান, রিপন-সাকলাইনের উড়ান

‘ডিনার শেষে একটু হাঁটতে বের হলাম। একটু পরই আবার রুমে ঢুকে যাবো।’- মিরপুরের একাডেমি রিপন মন্ডলের ঠিকানা। ঢাকায় দ্বিতীয় ওয়ানডে শেষে মিরপুরেই হাঁটাহাঁটি করছিলেন। দলের জয় নিয়ে পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

বিসিএল শুরু হলেও চার দলের কোনো স্কোয়াডে রাখা হয়নি রিপনকে। সেখানেই ইঙ্গিতটা পরিষ্কার ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হলো। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। বিশ্রামে রাখা হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে। নতুনভাবে পেস আক্রমণ সাজানোর অংশ হিসেবেই সুযোগ এসেছে রিপনের।

দলে নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সিলেটে বিসিএল খেলতে গেলেও একাদশে সুযোগ পাননি। তবে তাতে লাভই হয়েছে। জাতীয় দলে যোগ দিতে কোনো বাধা নেই এখন। নিজের নির্বাচনের খবর পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন তিনি।

‘‘অপেক্ষায় ছিলাম এই দিনটার। ‘জাতীয় দলের জন‌্য নির্বাচিত হয়েছি’- এই কথাটার এতোটা আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি আগে নিউজে দেখেছি। পরে শাহরিয়ার নাফিস ভাইয়ের ফোন পাই। তিনি জানান আমাকে নেওয়া হয়েছে। সিলেটে বিসিএল খেলতে এসেছিলাম। যদিও একাদশে নেই। এখন জাতীয় দলে যোগ দিতে অপেক্ষার তর সইছে না।’’

বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন শক্তিশালী এক ব্রিগেড। তাসকিন, মোস্তাফিজুরদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই যাত্রায় যোগ হয়েছেন ইবাদত, শরিফুল, হাসান মাহমুদদের মতো নাম। ব্রিগেডের সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র হয়ে উঠেছেন নাহিদ রানা। দেশে-বিদেশে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। সেই দলে নতুন সংযোজন রিপন ও সাকলাইন, দুজনই সম্ভাবনাময়।

রিপনের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়ে গেছে আগেই। এশিয়ান গেমসে খেলেছেন ৩ ম‌্যাচ। সাকলাইন এখনো সেই অপেক্ষায়। দুজনের বন্ধুত্ব অনেক দিনের। রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে বিপিএল পর্যন্ত একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। সাকলাইনকে অভিনন্দন জানানোর পর দুজন ডুব দিলেন অতীতে,

‘‘আমরা একসঙ্গে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ থেকে খেলেছি। দুজনের বোঝাপড়ারটা দারুণ। বোলিংটাও আমরা প্রায় একসঙ্গে করি। রিপন ডেথ ওভারে। আমি মিডল ওভারে। আবার কখনো নতুন বলে দুজনই শুরু করি। এরপর আমরা বিপিএলও একসঙ্গে খেলেছি। দুজনই বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে ব‌্যাটিংও করেছি। এখন বন্ধুর মতোই সম্পর্ক। আমার সঙ্গে রিপনও ডাক পেয়েছে এজন‌্য আনন্দটা দুজনেরই বেশি।’’

২৭ বছর বয়সী সাকলাইন মূলত টেপ-টেনিস ক্রিকেট থেকেই উঠে এসেছেন। প্রচলিত বয়সভিত্তিক কাঠামো পেরিয়ে না এলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা দেখিয়ে নজরে পড়েছেন। বল হাতে বৈচিত্র্য, আর ব্যাট হাতে লোয়ার অর্ডারে ঝড় তোলার ক্ষমতা, এই দুটোই তাকে আলাদা করেছে।

সাকলাইন জানেন তার সামনের পথটা আরও কঠিন, কন্টকাকীর্ণ, ‘‘এতোদিন যে পরিশ্রম করেছি তার পুরস্কার পেয়েছি। সামনে আমাকে আরও ভালো করতে হবে। নয়তো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। নিজের শক্তির জায়গাগুলোতে আরও শক্তিশালী হতে হবে। নিজের দূর্বলতাগুলো দূর করতে হবে।’’

স্লোয়ার বলই তার বড় অস্ত্র, প্রেরণা ডোয়াইন ব্রাভো। অফ-কাটারেও দক্ষতা আছে। আর ব্যাটিংয়ে পছন্দ স্লগ ওভার। স্থানীয় কোচ হান্নান সরকারের বিশ্বাস, সঠিক সময়েই সুযোগ পেয়েছেন দুজন। সুযোগ পেলে দেশের জন্য বড় কিছু করতে পারবেন তারা।

সাকলাইন বিশ্বাস করেন তিনিও সেরা সময়েই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। এখন ডানা মেলে উড়ার অপেক্ষায়, ‘‘আমি মনে করি আমি ভালো অবস্থানে আছি। আমার ওই আত্মবিশ্বাসটাও আছে। অনেক দিন ধরে ক্রিকেট খেলেই এসেছি। এখন নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষা। বিশ্বাস আছে ভালো কিছু্ হবে।’’

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়