ঢাকা     বুধবার   ১৩ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ৩০ ১৪৩৩ || ২৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মায়ের কবরে শায়িত হলেন আতাউর রহমান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৫, ১৩ মে ২০২৬   আপডেট: ১৫:৪২, ১৩ মে ২০২৬
মায়ের কবরে শায়িত হলেন আতাউর রহমান

আতাউর রহমান

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে সমাহিত করা হয়েছে বাংলা নাট্যাঙ্গনের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানকে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে জানাজা ও সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। জীবনের দীর্ঘ পথচলা শেষে আবারো যেন মায়ের স্নেহমাখা কোলে ফিরে গেলেন এই নাট্যজন। 

রাজধানীর মগবাজারে ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডে নিজ বাসভবনের সামনে গতকাল বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হয় আতাউর রহমানের প্রথম জানাজা। সেখানে ইমামতি করেন তার ছোট ভাই আবু নোমান মামুদুর। 

আরো পড়ুন:

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, অভিনেতা জাহিদ হাসান, গাজী রাকায়েতসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অসংখ্য গুণীজন। শোক আর স্মৃতিচারণে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। 

জানাজার পর আতাউর রহমানের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে রাষ্ট্রীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এই নাট্যব্যক্তিত্ব গত ১১ মে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। 

আতাউর রহমান ছিলেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক বহুমাত্রিক উজ্জ্বল নাম। অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চনির্দেশনা, নাট্যরচনা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রেখেছেন অনন্য অবদান। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবেও তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয়। 

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এই নাট্যজন দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের নাট্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছেন নিজের সৃষ্টিশীলতা, প্রজ্ঞা ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতায়। মঞ্চনাট্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়